উপাচার্যের ‘অনিয়মের সহযোগী’ দুই উপ-উপাচার্য

28
Smiley face

দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্যের শেষ কর্মদিবসে ১৪১ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার পর ঘটনটি তদন্ত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে গত ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে সেই কমিটির সদস্যরা।

ওই তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, সেদিন এম আবদুস সোবহান, ‍তার জামাতা আইবিএ’র প্রভাষক এ টি এম শাহেদ পারভেজ, উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী মো. জাকারিয়া, রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ, তিনজন সহকারী রেজিস্ট্রার, সংগীত বিভাগের সভাপতি ও দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের সাতজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য দাবি করেন, আবদুস সোবহানের ১৪১ জনের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। এ বিষয়ে তারা জড়িত নন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলছেন, এম আবদুস সোবহান যে অ্যাডহক ভিত্তিতে গণহারে নিয়োগ দেবেন, সেই খবর বেশ কয়েক দিন ধরেই ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ। শুধু তাই নয়, গত ৪ মে উপাচার্যের বাসভবনে হতে যাওয়া সিন্ডিকেট বৈঠকে যাতে দুই উপ-উপাচার্য উপস্থিত হতে না পারেন, সে কারণে কৌশলে তাদের বাসায় অবস্থান নিয়েছিল দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের কয়েকজন সদস্য। তাদের প্রচেষ্টায় ওই দিনের সিন্ডিকেট সভা ভেস্তে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এম আবদুস সোবহানের ১৪১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গেই শুধু নয়, তার চার বছর দায়িত্বকালে সব ধরনের অনিয়মের সহযোগী এই দুই উপ-উপাচার্য। এমন বেশ কিছু নথিপত্র আমাদের সময়’র হাতে এসেছে। ওই নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উপাচার্য সোবহানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার প্রতিটি কাজে সহায়তা করেছেন আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী মো. জাকারিয়া। এই কাজে কোষাধ্যক্ষও জড়িত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক সুলতান-উল-ইসলাম টিপুও এমনটাই মনে করেন। তিনি বলছেন, উপাচার্যের নানা অনিয়ম পাস হয়েছে সিন্ডিকেটে। সকল সিন্ডিকেটে উপস্থিত ছিলেন দুই উপ-উপাচার্য। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তারা উপাচার্যের  কোনো অনিয়মের প্রতিবাদ করেননি। গত চার বছরে এক দিনও এমন নজির দেখা দেয়নি। বরং তারা উপাচার্যের সঙ্গে থেকে তার অনিয়মের সহযোগী ছিলেন বলেই প্রতিয়মান হয়।

আনন্দ কুমার সাহা

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয় গত ৬ মে। নতুন উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তার রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহাকে। সেই দায়িত্বে থেকেই তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে ‘অসত্য তথ্য’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, উপাচার্য আবদুস সোবহানের সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন আনন্দ কুমার সাহা। প্রার্থীদের বয়স কমিয়ে নিয়োগ কার্যক্রমেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এ কারণেই অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন : আবদুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগে অনিয়ম করতে আগের প্রশাসনের যুগোপযোগী একটি শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা ২০১৭ সালে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। এই কাজে তাকে সহায়তা করেন আনন্দ কুমার সাহা। শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন কমিটির আহ্বায়ক বা প্রধান ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে ওই কমিটির সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা তলানিতে নামানো হয়। এর ফলেই নিয়োগে মেধাবীদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।

ইউজিসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, আবদুস সোবহান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন কমিটিতে ছিলেন না। এরপরও তাকে কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন আনন্দ কুমার সাহা। বিদায়ী উপাচার্য সেই বৈঠকে কমিটির সদস্যদের অনেকটা ‘চাপ দিয়ে’ নীতিমালায় যোগ্যতা শিথিল করেন। নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দুয়ার খুলে যায়। এ বিষয়ে ইউজিসি আনন্দ কুমার সাহার বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি ইউজিসির তদন্ত কমিটির কাছে কোনো তথ্য দেননি।

সাধারণ কর্মচারী নিয়োগ : ২০১৯ সালের ৪৯২তম সিন্ডিকেটে সাধারণ কর্মচারী নিয়োগের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়।  সাধারণ কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিটির সদস্য আনন্দ কুমার সাহাকে সকল ক্ষমতা দেন উপাচার্য। সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও নীতিমালা শিথিল করে প্রশাসনের বিভিন্নজনের নিকট আত্মীয়সহ অন্তত অর্ধশতাধিককে অ্যাডহক ও মাস্টার রোলে মেডিকেল অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী রেজিস্ট্রার, হল সুপারভাইরাজসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি বা প্রধান ছিলেন আনন্দ কুমার সাহা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতিকরণ ও অবমাননা : গত ৩১ আগস্ট আনন্দ কুমার সাহা তার নিজস্ব ফেসবুকে (Ananda Saha) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটিতে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেই ছবির একটি স্ক্রনশট ছড়িয়ে পড়ে অনেকের ম্যাসেঞ্জারে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অবমাননার সেই ছবি এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। কিন্তু অবমাননাকর সেই ছবি আমরা প্রকাশ করছি না।

কৃষি প্রকল্পের দায়িত্বে অনিয়ম ও চরম ব্যর্থতা : বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি আনন্দ কুমার সাহা। এ দায়িত্ব পেয়ে তিনি নানা বিতর্ক ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল এক আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের সহায়ক প্রকল্প হিসেবে ‘সাত পুকুর সৌন্দর্যবর্ধন ও গবেষণা প্রকল্প’ হাতে নেয় প্রশাসন। এই কাজে সঙ্গে জড়িত ছিলেন আনন্দ কুমার সাহা। অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় মাঝ পথে সেই কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের ভেতরের সড়কের ‘পঞ্চাশ বছরের পুরোনো’ পাম গাছগুলো কেটে ফেলা হয় আনন্দ কুমার সাহার নির্দেশে। রাতে সেই গাছগুলো কেটে নেওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে নেয়নি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গাছে ছত্রাক লাগার কারণে সেগুলো কাটা হয়েছে বলে ওই সময় গণমাধ্যমকে জানান আনন্দ কুমার সাহা।

তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন সেই যুক্তি মেনে নেননি। গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিল, ‘গাছগুলো এত দিন সৌন্দর্য ছড়াল, সেগুলোর পরিচর্যা করা যেত। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া যেত। গাছের গোঁড়া খুঁড়ে একটু সার-পানি দিলে নতুন করে সবুজ হয়ে উঠতে পারত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি বিক্রি : আনন্দ কুমার সাহা কৃষি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনটি জায়গা থেকে শতশত ট্রাক মাটি ক্যাম্পাসের বাইরের ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ আছে, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার কাছে এই মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে থেকেও এই কাজে নিরব দর্শক হয়ে থেকেছেন আনন্দ কুমার সাহা।

গত ২৩ এপ্রিল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেই ঘটনার নজির তুলে ধরে এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বিঘা জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে রাতে শতশত ট্রাক মাটি বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি আনন্দ কুমার সাহাকে বারবার বলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

খয়ের গাছের টেন্ডারে ধান বিক্রির আদেশ : গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কৃষি প্রকল্পের ‘খয়ের গাছ কাটার’ একটি টেন্ডারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. বাবুকে একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘কৃষি প্রকল্পের কিছু খয়ের গাছ কাটাতে ৪৯ হাজার ৬৭০ টাকা সর্বোচ্চ মূল্য হওয়ায় কর্তৃপক্ষ গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুমোদন দেয়।’ কিন্তু কার্যাদেশপত্রে লেখা হয়, ‘চিঠি প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে উক্ত ধানসমূহ ওজন করে সমুদয় মূল্য কৃষি প্রকল্পের অগ্রণী ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বলা হলো।’ এ ছাড়া পৃথক একটি বিবিধ রশিদের নম্বর ফাঁকা রেখেই কৃষি প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাতে স্বাক্ষর করেন। আনন্দ কুমার সাহা সভাপতি থাকা অবস্থায় এই অনিয়ম করা হয়।

চৌধুরী মো. জাকারিয়া

উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অনিয়ম পিছু ছাড়েনি চৌধুরী মো. জাকারিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য তার নাম উঠে আসে। চারকিপ্রার্থীর সঙ্গে দর কষাকষির একটি অডিও প্রকাশের পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ইউজিসি। সেই তদন্তেও জাকারিয়ার নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে গণশুনানির জন্য গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে ইউজিসির আগারগাঁও কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ‘অসুস্থতার’ অজুহাত দিয়ে সেখানে উপস্থিত হননি।

মেয়ে-জামাতার নিয়োগ : উপাচার্যের অনিয়মের সহযোগী হয়ে নিজের মেয়ে ও জামাতার চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন চৌধুরী মো. জাকারিয়া। স্নাতকে (সম্মান) প্রথম শ্রেণি বা জিপিএ ৩.৫ না থাকা সত্ত্বেও তার জামাতা মো. সালাউদ্দিন সাইমুমকে আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগের নীতিমালায় তিনি আবেদনের অযোগ্য ছিলেন। অথচ ওই বিভাগে নিয়োগের জন্য আবেদন করা অনেকের ফলাফল মো. সালাউদ্দিন সাইমুমের চেয়ে ভালো ছিল। আর সাইমুমের স্ত্রী জাকিয়া জিনাত চৌধুরী নিয়োগ পেয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।

সৌন্দর্য বর্ধনের নামে অপচয় : উপাচার্যের আস্থাভাজন একজন ছিলেন এই উপ-উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের ফুটপাতে ঘাস লাগানো হয়। এরপর আবার সেই ঘাস তুলে ফেলা হয়। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে অর্থ হরিলুটের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

আত্মপ্রচারে ব্যস্ত দুই উপাচার্য : গত বছরের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশনার প্রচলিত নিয়ম উপেক্ষা করে সেটি প্রকাশ করা হয়।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু’ ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। আর সম্পাদক ছিলেন চৌধুরী মো. জাকারিয়া। ওই ম্যাগাজিনে মাত্র ছয়টি লেখা স্থান পায়। এর সবগুলোই ম্যাগাজিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খেলা। আনন্দ কুমার সাহার লেখা দুটি ও চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি লেখা। ম্যাগাজিনটির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য। তার ছিল একটি লেখা। ম্যাগাজিনের সম্পাদক ছিলেন আরেক উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া। ম্যাগাজিনের সহযোগী সম্পাদক বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তহমিনা সরকার। তার একটি লেখা ছিল। এ ছাড়া সম্পাদনা পরিষদে নেই এমন ব্যক্তির শুধু একটি লেখা ছাপা হয়েছে। সেই লেখক মো. হাসিবুল আলম প্রধান। তিনিও প্রশাসনের একটি দায়িত্বে ছিলেন।

এ ছাড়া একাধিক কমিটিতে দেখা গেছে এই দুই উপ-উপাচার্যের নাম। তারা সিন্ডিকেটে উপাচার্যের সব অনিয়মকে সায় দিয়ে গেছেন। এমনকি উপাচার্যের শেষ দিনের নিয়োগে বৈধতা দিতে সিন্ডিকেটে উপস্থিত হতে মরিয়া ছিলেন তারা। কিন্তু শিক্ষকদের কৌশল ও চাপে তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা আনন্দ কুমার সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পরে বিষয়টি জানিয়ে তার ফোনে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু এতেও তিনি সাড়া দেননি।

পরে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে। কিন্তু তিনিও ফোনের উত্তর দেননি।

সূত্র: আমাদেরসময়

 


Smiley face