গ্রীষ্মের ধাক্কা সামলাতে জার্মানিতে নতুন ধরনের গাছপালা

29
Smiley face

নার্সারি থেকে চারাগাছ এনে হামবুর্গ শহরের এক আবাসনে বসানো হচ্ছে৷ কয়েকটি চারাগাছে উজ্জ্বল সবুজ রংয়ের পাতা শোভা পাচ্ছে৷ বিচ গাছের চারার তুলনায় সেগুলি অনেক সুন্দর৷ জাপানি ও ককেশীয় আল্ডার জাতের সংমিশ্রণের মাধ্যমে এক শঙ্কর প্রজাতি সৃষ্টি করা হয়েছে৷ সেটির অনেক গুণাগুণ রয়েছে৷ ব্যার্নহার্ড ফন এয়ারেন বলেন, গরম বাড়লে পাতার ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায়৷ ফলে ভেতরে আর্দ্রতা বজায় থাকে৷ নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখনো স্পেট’স আল্ডার গোত্রের বেশি গাছ লাগাই নি৷ জলবায়ু পরিবর্তন উপেক্ষা করে ভবিষ্যতের গাছ হিসেবে এই গাছ এসে পড়েছে৷ শহুরে পরিবেশে এমন গাছ কেমন থাকে, আমাদের তা দেখতে হবে৷ আমার ধারণা, প্রচলিত গাছপালার তুলনায় এগুলির গুণাগুণ অনেক বেশি৷”

কাছেই গত মরসুমে লাগানো কয়েকটি স্পেট’স আল্ডার গাছ রয়েছে৷ গ্রীষ্মকাল খুবই শুকনা হওয়া সত্ত্বেও সেগুলি এখনো দেখতে সুন্দর লাগছে৷ স্থানীয় গাছপালাগুলির তুলনায় সেগুলির অবস্থা অনেক ভালো৷ এমন উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ব্যার্নহার্ড ফন এয়ারেন বলেন, ‘‘বিশ বছর আগে আমরা বলতে শুরু করেছিলাম, যে বিশেষ করে শহরের জন্য উপযুক্ত ভিন্ন ধরনের নতুন ও ভালো গাছ লাগাতে হবে৷ সেখানে গাছের উপর অনেক চাপ পড়ে৷ মানুষের নড়েচড়ে বসতে কিছুটা সময় লেগেছে৷”

গ্রীষ্মের ধাক্কা সামলাবে যেসব গাছপালা

গোটা বিশ্বের শহরগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷ কংক্রিটের আধিক্যের কারণে অনেক শহর প্রবল বৃষ্টিপাত বা বন্যার ধাক্কা সামলাতে পারছে না৷ পানি সেখানে মাটিতে প্রবেশের জায়গা পায় না৷

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা অভিযোগ করছেন, যে এর ফলে জঙ্গল বা মাঠের তুলনায় বৃষ্টিপাতের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ হারিয়ে যায়৷ মানুষ বা প্রকৃতি তার সদ্ব্যবহার করতে পারে না৷ পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে আন্দ্রেয়াস মাৎসিঙার বলেন, ‘‘বৃষ্টির পানি নালায় চলে গেলে পুরোপুরি হারিয়ে যায়৷ সেই পানি বাষ্পীভূত হতে পারে না৷ ফলে পানির প্রাকৃতিক চক্র থেকে সেটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ বাষ্পীভবনের কারণে বাতাস ঠাণ্ডা হয় এবং আমরা সেটা টের পাই৷ সারফেস বা ভূমি পুরোপুরি ঢাকা থাকলে গরম বেড়ে যায়৷ বাষ্পীভবন না ঘটলে ঠাণ্ডাও হতে পারে না৷ শহরের কিছু অংশে বিচ্ছিন্ন উত্তাপের অন্যতম কারণ এটি৷”

বার্লিনের দক্ষিণে এক পাড়ায় বিকল্প এক ভাবনা দেখা যাচ্ছে৷ সেখানে ‘স্পঞ্জ সিটি’ নামের পানি ব্যবস্থাপনার নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ সেখানে খোলা জমি ও ছাদের উপর বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে স্থানীয় পুলে পাঠানো হচ্ছে৷ ফলে সেই পানি নালায় উধাও হয়ে নিশ্চিহ্ন হতে পারছে না৷

হাইড্রোলজিস্ট হিসেবে হানা ক্র্যুগার বার্লিনের নিজস্ব পানি সরবরাহকারী কোম্পানির থিংক ট্যাংকে সক্রিয় রয়েছেন৷ তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‘বৃষ্টির পানি আসলে অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ৷ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের শহরকে মানিয়ে নিতে হবে৷ সে কারণে আমরা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সেই পানি ব্যবহার করতে চাই৷”

প্রায় ১০ হেক্টর জুড়ে গোটা প্রকল্প চলছে৷ সেখানে অনেক অংশই উন্মুক্ত৷ চারিদিকে লম্বা একফালি বাগান, ছাদের উপরেও মাটি ও গাছপালা রয়েছে৷ নানা উপায়ে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে বাতাসে অথবা মাটিতে ছাড়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷ হানা ক্র্যুগার প্রক্রিার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘বৃষ্টির পানি ফুটপাথের পাথরের মাঝে অথবা ছোট গর্তে ঢুকে যায়৷ সে কারণে ফাঁক রাখা হয়৷ পানি মাটিতে ঢুকে যায় অথবা উবে যায় বলে গাছপালার উপকার হয়৷”

ব্যার্নহার্ড ফন এয়ারেন পাঁচ বছর আগে ‘ক্লাইমেট কপ্স’ উদ্যোগ চালু করেছিলেন৷ তার উত্তাপ-নিরোধক গাছপালা পুরোপুরি পানি ছাড়া বাচতে পারে না৷ সেগুলির ঠিক কত পরিমাণ পানি প্রয়োজন এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সেগুলি কত ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে, তা জানতে আরও সময় লাগবে৷ ফন এয়ারেন বলেন, ‘‘আমরা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি৷ আমরা ৬১টি ভিন্ন জাতের গাছপালা পরখ করে দেখছি৷ কিছু জাতের গাছপালা কয়েক দশক ধরে লালনপালন করছি বলে সেগুলির শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে জানি৷”

তার নার্সারি এখনো পর্যন্ত প্রায় ১০,০০০ গাছপালা লালনপালন করেছে, যেগুলি জার্মানির শহরাঞ্চলের জন্য একেবারে নতুন৷ যেমন হামবুর্গ শহরের অনেক পাড়ায় ‘টার্কি ওক’ নামের নতুন ‘ক্লাইমেট ট্রি’ লাগানো হচ্ছে৷ ফলে সব মিলিয়ে শহরগুলির আকর্ষণ বেড়ে চলছে৷


Smiley face