কুরিয়ার সার্ভিসের অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে রাজশাহীর আম

167
Smiley face

কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন আম ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের বিস্তর অভিযোগ প্রধান দুটি কুরিয়ার সার্ভিস এসএ পরিবহন ও সুন্দরবনের বিরুদ্ধে। গ্রাহককে জিম্মি করে নেওয়া হচ্ছে গলাকাটা মাশুল। আবার সময়মতো পণ্য ডেলিভারিও দেওয়া হচ্ছে না। গায়েব হচ্ছে প্যাকেট। গাড়িতে অতিরিক্ত আম বহনের কারণে চাপাচাপিতে প্যাকেটেই নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের তদারকিও দৃশ্যমান নেই। তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেছেন, কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক মাত্রায় প্রতারণার অনেক অভিযোগ তারা পেয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

রাজশাহী থেকে পাঠানো সুন্দর আম গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসের অব্যবস্হাপনায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকজন ব্যক্তি ও আম ব্যবসায়ীরা প্রতিকার পেতে ক্যাব সভাপতি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, করোনা মহামারির এই সময়ে এসএ পরিবহণ,  সুন্দরবন, জননী ও এজেআর সহ আরও কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিস নিজেরাই গলাকাটা মাশুল নির্ধারণ ও আদায় করছে। তারা গ্রাহকদের প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এসব কুরিয়ার সার্ভিসের নৈরাজ্যকর মাশুল আদায় ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধের আবেদন করেছেন। প্রকৌশলী ও সমাজসেবী একেএম খাদেমুল ইসলাম ক্যাবের সভাপতি বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলেছেন, আমসহ বিভিন্ন পণ্য বহনে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে রাজশাহী অঞ্চলে। যেখানে ম্যাঙ্গো ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় এক কেজি আম বহনের মাশুল এক টাকা ৩১ পয়সা, সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পাঠাতে কোনো কোনো কুরিয়ার সার্ভিস কেজিপ্রতি ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত মাশুল আদায় করছে। এক কেজি আমে ২০ টাকা মাশুল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নষ্ট হওয়া আম।

প্রকৌশলী খাদেমুল ইসলামের অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক কেজি আম ৩০ টাকায় কেনা সম্ভব হলেও ২০ টাকা কুরিয়ার মাশুল দিতে গিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে এক কেজির দাম পড়ছে ৫০ টাকা। আর অনলাইন ও চালানি ব্যবসায়ীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। বিশেষ করে বেশি মাশুল নিয়েও সময়মতো আম ডেলিভারি হচ্ছে না। আবার আমের প্যাকেটও গায়েব হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো না পৌঁছানোয় অথবা প্যাকেট হারিয়ে যাওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর গলাকাটা মাশুল আদায়ের ঘটনাকে চরম অরাজকতা ও দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, রাজশাহী থেকে একটি সাধারণ ডকুমেন্ট ঢাকায় পাঠাতে কোনো কোনো কুরিয়ার সার্ভিস ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। ঠিকানাতে ডেলিভারি নিতে হলে আরও অধিক চার্জ দিতে হচ্ছে। আর আমের কেজিতে আদায় করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে। এসব যেন মগের মুল্লুক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মৌসুমি আম ব্যবসায়ী ও সিটি কলেজের অধ্যক্ষ তারিকুল আলম সিদ্দিকী বলেন, ঢাকায় আম পাঠাতে গলাকাটা মাশুল তো নিচ্ছেই আবার সময়মতো ডেলিভারি হচ্ছে না। আমের প্যাকেট গায়েব হচ্ছে। খোঁজ নিতে গেলে খারাপ আচরণ করা হচ্ছে। হটলাইনে অভিযোগ করলেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে এসএ পরিবহণ ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আম বহনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে।

রাজশাহী বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ শুক্রবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, এসএ পরিবহণ, সুন্দরবনসহ বেশ কিছু কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিনে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগকারী ও কুরিয়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এসব বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


Smiley face