রাবি উপাচার্য ভবনের সামনে ‘এডহক’ নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাগাতার অবস্থান অব্যাহত

41
Smiley face

রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ‘এডহক’ নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ জুন) রাত ১০টায় শুরু এ অবস্থান কর্মসূচি বুধবার (২৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তাদের পদায়ন না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এদিকে লাগতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাদর প্রাথমিক চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চাকরিতে পদায়ন ও পূর্ব ঘোষিত সিন্ডিকেট সভা বন্ধে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এসময় তাদের উপাচার্যের বাসভবনের প্রবেশপথে বসে ও শুয়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব নির্ধারিত সিন্ডিকেট সভা স্থগিতের ঘোষণা দেন উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা।

এডহক নিয়োগপ্রাপ্ত রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমন বলেন, ‘দেড় মাস ধরে রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা আশ্বাস দিয়েও আমাদের পদায়নের ব্যবস্থা করেননি।

বরং মঙ্গলবার রাতে প্রেস ব্রিফিংয়ে রুটিন উপাচার্য ‘যারা জব পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন’ বাক্যটির মাধ্যমে আমাদের অপমান করেছেন। কারণ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় অধ্যাদেশ মোতাবেক আমাদের জব পাওয়ার বিষয়টি অবগত হয়েও তার বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, এটি কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়াই নয়। যা দুর্ভিসন্ধিমূলক। তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে আমরা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

’ নিয়োগপ্রাপ্ত রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহাফুজ আল আমিন বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের চাকরিতে পদায়নের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েও কার্যকর করছে না। তাই আমরা লাগাতার অবস্থান নিয়েছি, পদায়নের ঘোষণা না দিলে অবস্থান ছাড়ব না। আর আমরা কোনো সিন্ডিকেট সভাও করতে দেব না।

’ তবে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘যারা জব পেয়েছে বলে দাবি করছে, তা পূরণ করা আমার একার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকার সংশ্লিষ্ট রয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়।’ উল্লেখ্য, কতিপয় শিক্ষকদের বাধায় গত ২ ও ৪ মে অর্থকমিটি ও সিন্ডিকেটের শেষ সভা করতে না পেরে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান তার শেষ কর্মদিবসের দু’দিনে (৫ ও ৬ মে) ১৯৭৩ সালের রাবি অধ্যাদেশের ১২(৫) ধারায় অর্পিত ক্ষমতা বলে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ১৩৮ জনকে এডহক নিয়োগ দিয়ে যান।

উক্ত নিয়োগ ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি করে। এরপর ৮ মে রুটিন উপাচার্য এডহক নিয়োগপ্রাপ্তদের পদায়ন (যোগদান) স্থগিত করেন। ২৩ মে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। তবে তদন্ত কমিটি এই নিয়োগ ছাড়াও নীতিমালা শিথিলের পর নিয়োগ দেওয়া ৩৪ শিক্ষকের নিয়োগও বাতিলের সুপারিশ করে। যা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।


Smiley face