১০০–তে হ‌ুমায়ূন আহমেদ পেলেন শূন্য

5
Smiley face

কে কাকে অভিনন্দন জানাবে
বিপাশার ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হিসাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন শিলা। খবরটা শোনার পর শিলাকে তাঁর মা বললেন, মা যাও বাবাকে ধন্যবাদ দিয়ে এসো। শিলা অবাক, কেন? কেন মানে? তোমার বাবার জন্যই তো অভিনয়ের সুযোগ পেলে, তা না হলে তো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেতে না। শিলা বলল, আমি ভালো অভিনয় করি, এটা বাবা জানে। তা না হলে তিনি আমাকে ছবিতে নিতেন না। মেয়ে হিসেবে বাবা আমাকে সুযোগ দেননি। আমার ভালো অভিনয়ের পুরস্কার পাওয়ায় বাবার উচিত আমাকে অভিনন্দন জানানো। শিলার মা কিছুটা রেগে বললেন, এমন অহংকার তুমি কার কাছ থেকে শিখেছ? সে উত্তর দিল, বাবার কাছ থেকে। তাঁর মা রেগে সব কথা হ‌ুমায়ূন আহমেদকে জানালেন। শুনে হ‌ুমায়ূন আহমেদ বললেন, শিলা ঠিকই বলেছে, আমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার কোন কারণ নেই। চলো অভিনেত্রী মেয়েকে অভিনন্দন জানিয়ে আসি।

হ‌ুমায়ূন আহমেদ সেদিন ইচ্ছা করে হাসেননি
ছবিতে ঢাকাইয়া পান দোকানদারের চরিত্রটি করেছিলেন অভিনেতা সালেহ আহমেদ। সদাচঞ্চল, হাসিখুশি মানুষ হিসেবে তাঁকে খুবই পছন্দ করতেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। শুটিংয়ের আগেই তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছিল এক মাস দাঁড়ি কাটা যাবে না। কিন্তু শুটিংয়ের দিন ক্লিন সেভ করে স্পটে হাজির হলেন তিনি। তাঁকে এই অবস্থায় দেখে খুব রাগ করলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। নকল দাঁড়িতেও তাঁর চরিত্রটি মনমতো হলো না। দাঁড়ি ছাড়াই শুটিং শুরু হলো। মেজাজ খারাপ করেই শুটিংয়ে গেলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। তাঁর অভিনয় কিন্তু খুবই চমৎকার হলো। ভালো লাগাটা প্রকাশ করলেন না হ‌ুমায়ূন আহমেদ। সালেহ আহমেদ রসিক মানুষ। শুটিংয়ে তাঁর রসিকতায় হ‌ুমায়ূন আহমেদ ইচ্ছা করে হাসি আটকে রাখেন। হ‌ুমায়ূন আহমেদের রসিকতায়ও সালেহ আহমেদ যেন হাসার সুযোগ না পান, সে জন্য এই অভিনেতা পাশে থাকলে হ‌ুমায়ূন আহমেদ ইচ্ছা করে, নন্দনতত্ত্ব, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, গ্রিন ইফেক্টের মতো বিষয় নিয়ে কথা বলতেন।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের ভাইভা
শুটিংয়ের জন্য সব প্রস্তুত। এমন সময় বিপত্তি। হুমায়ূন আহমেদকে বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির সদস্য হতে হবে। সদস্য হওয়ার জন্য তাঁকে পরীক্ষা দিতে হবে। ভাইভা দিতে গিয়ে দেখলেন, ২০ জনের মতো পরিচালক বসে আছেন। চাষী নজরুল ইসলামসহ অনেকেই তাঁকে পরিচালনা বলতে কী বোঝেন, পরিচালকের কাজ/সংজ্ঞা কী, লেন্স কাকে বলে, টপ শট কী, একের পর এক এ ধরনের অনেক প্রশ্ন করলেন। উত্তরে এখানেও চিরাচরিত রসিকতার আশ্রয় নিলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ। উত্তর শুনে পরীক্ষকেরা গম্ভীর হয়ে গেলেন। প্রশ্ন সম্পর্কে হ‌ুমায়ূন আহমেদ তাঁর বইতে লিখেছেন, ‘যা শুরু হলো তা হাস্যকর কর্মকাণ্ড ছাড়া আর কিছু বলার কোনোই কারণ নেই। যাঁরা প্রশ্ন করছিলেন, তাঁরা তাঁদের অজ্ঞতার কথাই আমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন।’ কারণ তাঁকে যে লেন্স–সম্পর্কিত প্রশ্ন করা হচ্ছে, সেগুলো তাঁর পদার্থবিজ্ঞান থেকে জানার ক্ষুদ্র একটি অংশমাত্র, যেগুলো তিনি আগে থেকেই জানতেন। জীবনে সব পরীক্ষায় ভালো করা এই লেখক ও নির্মাতা কোনোক্রমে পরিচালক সমিতির পরীক্ষায় পাস করলেন। পরিচালকরা কেউ কেউ তাঁকে ১০০–এর মধ্যে শূন্য দিয়েছেন। দু–একজন ৯০ দিয়েছেন। নম্বরের হেরফের তাঁর কাছে রহস্য মনে হয়েছিল। কোনোক্রমে পাস করায় তাঁকে সরাসরি পরিচালক হিসেবে সদস্যপদ দেওয়া হলো না। তিনি সহযোগী সদস্যপদ পেলেন।


Smiley face