ফকির আলমগীরের গণগংগীতের দায়িত্ব যেন পরবর্তী প্রজন্ম নেয়: সুরাইয়া আলমগীর

111
Smiley face

১৯৭৮ সালের ২৫ জানুয়ারি সুরাইয়া আলমগীরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফকির আলমগীর। বিয়ের পর যেখানে গেছেন, বেশির ভাগ অনুষ্ঠানেই স্ত্রীকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন ফকির আলমগীর। গতকাল রাতে সেই বন্ধন ছিন্ন হলো। করোনাক্রান্ত হয়ে রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই গণসংগীতশিল্পী। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ দুপুর ১২টায় যখন ফকির আলমগীরের মরদেহ শেষবারের মতো শহীদ মিনারে আনা হয়, তখন মাইক্রোফোন হাতে তাঁর স্ত্রী বলেন, এই শহীদ মিনার আর ফকির আলমগীরের কণ্ঠে মুখর হবে না। তিনি চলে গেছেন জাগতিক সব বন্ধন ছিন্ন করে।

তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুরোধ জানিয়ে সুরাইয়া আলমগীর বলেন, ‘গণসংগীতের মশাল এত দিন বয়ে চলেছেন ফকির আলমগীর, তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যেন পরবর্তী প্রজন্ম নেয়। এই ধারার সংগীতের মাধ্যমে যেন মেহনতি মানুষের কথা উচ্চারিত হয়। গণমানুষের জন্য গাইতেন ফকির আলমগীর। তাঁর গানের পরতে পরতে বাংলার নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের কথা। যেকোনো আয়োজনে গগনবিদারী কণ্ঠে মানুষের জন্য গেয়ে উঠতেন তিনি।’

এর আগে বেলা ১১টায় ঢাকার খিলগাঁওয়ের পল্লী মা সংসদ মাঠে ফকির আলমগীরকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রথম জানাজা। পরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁকে নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শহীদ মিনারে সুরাইয়া আলমগীর সরকারের কাছে দাবি জানান, ফকির আলমগীর ছিলেন গণমানুষের শিল্পী। তিনি যেমন সাধারণ লোকের জন্য শত শত গান করেছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর গান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে। শোষণ, অন্যায় ও অবিচারের কথা তিনি গানে গানে বলেছেন। তাঁর মতো এমন বলিষ্ঠ কণ্ঠযোদ্ধাকে যেন পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নতুন প্রজন্ম যেন তাঁর মতো আদর্শ শিল্পীকে চিনতে পারে।


Smiley face