পুরুষ সেজে সারাদেশে গরু চুরি করতেন খাদিজা ও তার দল

495
Smiley face

প্যান্ট-শার্ট-হেলমেটে ‘পুরুষ’ সেজে সারাদেশে গরু চুরি করতেন তিনি! পুরুষ ছদ্মবেশে বহুদিন ধরেই গরু চুরি করে আসছে খাদিজা ও তার দল।

পুরুষের ছদ্মবেশে ওই নারী নিজের ট্রাক নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু চুরি করতেন। গরু চুরির অভিযোগে খাদিজা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। জানা গেছে, ওই নারী এবং তার স্বামীর মালিকানাধীন কয়েকটি ট্রাক রয়েছে। পুরুষ সেজে সেগুলোতে করেই খাদিজা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি করে বেড়াতেন।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের বাদিয়াচড়া গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খাদিজা বেগম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের বাদিয়াচড়া গ্রামের ইয়াসিন আলীর স্ত্রী।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “প্যান্ট, শার্ট ও হেলমেট পরে পুরুষের ছদ্মবেশে ওই নারী নিজের ট্রাক নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু চুরি করত। এতে তার স্বামী ইয়াসিন আলী, চালক সিরাজুল ইসলাম ও হেলপার তাকে সহযোগিতা করত।”

স্থানীয়রা জানান, তার ট্রাকের ব্যবসা রয়েছে। ইয়াসিন এলাকায় “গরু চোর” হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহেও শিবগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রথবাড়ি এলাকায় মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কে একটি সেতুর ওপর থেকে দুটি গরুসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই ট্রাকের মালিকও খাদিজা বেগম।

তারা নিজেদের ট্রাক নিয়ে বের হতেন এবং রাস্তায় কোনো গরু দেখলেই বা তাদের সূত্রের মাধ্যমে গরুর সন্ধান পেলে সেখানে যেতেন। এরপর তারা চালক সিরাজুল ইসলাম ও হেলপারের সহযোগিতায় ট্রাকে তুলে নিয়ে পরে বিক্রি করে দিতেন।

ওসি জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে বাড়ির কাছে একটি কলাবাগান থেকে খাদিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুরুষের ছদ্মবেশে স্বামী, ট্রাকের চালক ও হেলপারের সহযোগিতায় গরু চুরি করার কথা স্বীকার করেন খাদিজা।

ওসি আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেলে খাদিজা বেগমকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে খাদিজা, তার স্বামী ইয়াসিন আলী, ট্রাকচালক সিরাজুল ইসলাম ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 


Smiley face