শরতের আকাশে সাদা মেঘের সাজ

68
Smiley face

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি 

শরতের স্বচ্ছ নীল আকাশ দেখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন-

‘নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই লুকোচুরি খেলা’

এখন শরৎকাল। শরৎ মানেই নীল আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা। শরৎ মানে আকাশের গায়ে মেঘের ওড়াউড়ি! ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায় শরতের আকাশ। কখনো ধবল সাদা, কখনো কালচে রূপ ধারণ করে শরতের আকাশে ভাসা-ভাসা মেঘের দল। পড়ন্ত বিকেলে মেঘের গায়ে আগুন লাগা হলদে সন্ধ্যা উপহার দেয় শরৎকাল। আকাশে ওড়া কাগজের ঘুড়ির মতো দিনভর উড়ে বেড়ায় মেঘের দল। শরৎকালে এক আকাশে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ। গোধূলিলগ্নে সোনারঙে রঙিন হয়ে ওঠে আকাশ।

ভাদ্রের শেষে প্রকৃতিরাজ যেন তার সেই রূপ মেলে ধরেছে আরও সুচারুভাবে। চোখ মেলে আকাশের দিকে তাকালেই শুভ্র পেঁজা তুলোর মতো মেঘ চোখে পড়ে। এখন নগরীর প্রকৃতিজুড়ে শরতের চিহ্ন। আকাশে কখনো সাদা, কখনো ধূসর মেঘ। ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলানো শরতের আকাশ নগরবাসীর মন কখনো ভালো, কখনো উদাস করে দেয়।

শরৎ চিত্রকরের তুলিতেও আনে বর্ণিল আবহ। নীল আকাশে নাটাইহীন সাদা ঘুড়ির মতো দিনভর উড়ে বেড়ায় মেঘ। সেই আকাশের বুকে ডানা মেলে উড়ে যাওয়া চিল কিংবা নাম না জানা পাখিরা নজর কাড়ে।

এছাড়া, বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে সবুজ মাঠে সাদা চাদর বিছিয়ে রাখে কাশফুল। প্রকৃতির এ রূপে মুগ্ধ হয়ে কবিরা কবিতা লেখেন। নিজের প্রিয়তমাকে তুলনা করেন শরতের সৌন্দর্যের সঙ্গে— ‘এখানে আকাশ নীল— নীলাভ আকাশ জুড়ে সজিনার ফুল/ ফুটেথাকে হিম শাদা— রং তার আশ্বিনের আলোর মতন’ (এখানে আকাশ নীল, জীবনানন্দ দাশ)। এসময় সকালে বাড়ির উঠানে শিউলি ঝরে, দুপুরে নীল আকাশে সাদা মেঘ ওড়ে আর রাত আলোকিত হয় জ্যোৎস্নায়। শরতের এ দৃশ্য মানুষের মন উদ্বেলিত করে। কখনো আবার মন উদাস করে দেয়।সেই শরতের আকাশে চিলের এমন ওড়াউড়ি দেখলে মনে হবে এ যেন চিলের শরৎ উদ্যাপন। রবি ঠাকুরের লেখা সহজ পাঠ, প্রথম ভাগ এর ‘এসেছে শরৎ’—

এসেছে শরৎ হিমের পরশ

লেগেছে হাওয়ার পরে

সকাল বেলায় ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা ধরে।

আমলকীবন কাঁপে যেন তার

বুক করে দুরু দুরু

পেয়েছে খবর পাতা খসানোর সময় হয়েছে শুরু।

শিউলির ডালে কুঁড়ি ভরে এলো

টগর ফুটিল মেলা

মালতীলতায় খোঁজ নিয়ে যায় মৌমাছি দুই বেলা।


Smiley face