“খোলা চিঠি”

45
Smiley face

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি:

প্রিয় হিমাদ্র,

জানি আমাকে তোমার একটুও মনে পড়ে না।তবে আজ কেনো যেনো তোমাকে আমার মনে করতে ভীষণ ইচ্ছে করছে।অবশ্য যে মানুসটাকে মানুষ ভুলে যায় তাকেই মনে করে।আমি তো তোমাকে কখনো ভুলে যায়নি যে কারণে তোমাকে আলাদা করে মনে করবো ।তোমাকে মনে পড়ে আমার সব সময়।

কারণ তোমার আমার আড্ডা দেওয়ার জায়গা এক ,সবগুলোই তো খুব পরিচিত ,আমাদের জায়গাগুলোও এক ।সেই দিন তোমার সাথে আমার এমন সামনা সামনি দেখা হয়ে যাবে  সেটা আমি  ভাবিনি।চেয়েছিলাম তোমার সাথে আমার দেখা হোক তবে কল্পনা করিনি এতটা কাছ থেকে, এতটা সামনা সামনি দেখা হবে  তোমার সাথে আমার ।

সেদিন আমার ভীষণ মন খারাপ হয়েছিলো জানো? মনে হয়েছিলো এই জায়গা ছেড়ে অনেক দূরে চলে যায়।অনেক   অনেক অনেক দূরে ।যে জায়গায় তোমার কোনো স্মৃতি থাকবে না,তোমার পদধূলি থাকবে না,তোমার ছায়া থাকবে না ,তোমার মায়া থাকবে না,তোমার কিছুই থাকবে না।কিন্তু যেতে পারি না জানো!

এই শহরটা মায়া দিয়ে ,মায়াজালে আমাকে আটকে রেখেছে।ঠিক তোমার মায়া থেকে যেমন আমি বের হতে পারি না তেমন এই শহরের মায়া থেকেও আমি বের হতে পারি না। দুদিনের জন্য কোথাও গেলেই মনে হয় কখন ফিরে আসবো।কখন ফিরে আসবো আমি আমার এই মায়ার শহরে।আমার বললে ভুল হবে ,তোমার আমার মায়ার শহরে।

আচ্ছা ,তুমি আমাকে কত সহজেই ভুলে গেলে ,তুমি কত সহজেই তোমার মন থেকে আমাকে মুছে দিলে অথচ আমি কেনো পারলাম না।যদি পারতাম তবে আমি কি আর প্রতিদিন তোমাকে চিঠি লিখতাম । না লিখতাম না। যদি পারতাম তবে একা একা বসে  চাঁদ  দেখার অনুভূতির সাথে তোমাকে কল্পনায় আনতাম না।তুমি যে গান আমাকে শোনাতে সে গান নিজে  গেয়ে কল্পনায় সাজিয়ে তোমায় এক জীবন্ত রূপ দিতাম না।

আচ্ছা এই যে যখন তুমি আকাশ দেখো ,যখন ‍বৃষ্টি দেখো , যখন চাদঁ দেখো আমার কথা মনে পড়ে না?

আকাশে এরকম পূর্ণিমার চাঁদ দেখা দিলেই আমি তোমায় ফোন দিয়ে বলতাম কোথায় তুমি ?আমি এখন ছাদে বসে চাঁদ দেখছি।তুমিও কিন্তু চাঁদটা দেখো। বৃষ্টি হলে বলতাম ইস আজ বৃষ্টিতে ভীষণ ভিজতে ইচ্ছে করছে তোমার সাথে।যদি তোমার সাথে ভিজতে পারতাম!

একটা সময় তোমাকে ছুয়েঁ বা তোমাকে দেখে ,তোমার গলার স্বর শুনে আমি ঠিক বৃষ্টি ,আকাশ,,চাঁদ ছোঁয়ার বাসনা মেটাতাম।অথচ এখন আর সেই বাসনা  মিটাতে পারি না ।এখন ঠিক মনে হয় চাঁদটা যেমন অনেক অনেক দূরে তুমিও তেমন অনেক দূরে।

একটা কথা বলে “বামুন হয়ে চাঁদে হাত”, বামুন যেমন চাঁদ ছুঁতে পারে না ঠিক তেমনি আমি তোমাকে ছুঁতে পারি না।নিজেকে মাঝে মাঝে বামুন মনে হয়।

সত্যিই কি তুমি আমাকে ভুলে গেছো? জানো মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমি যেমন কারণে অকারণে তোমাকে সব সময় মনে করি ,তুমিও আমাকে কারণে অকারণে সব সময় মনে করো।

এই যে সেদিন দেখা হয়ে গেলো তোমার সাথে আমার তখন কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছিলো।তোমার সামনে আমার বসতে ইচ্ছে করছিলো।তোমার কিছু মনে হয়নি ?তবে ওই ভাবে পালিয়ে গেলে কেনো?কোনো আমার সামনে দাঁড়াতে পারলে না? তুমি কি সেদিন ভয় পেয়েছিল আমাকে? কারণ ছেড়ে তো আমি যায়নি তোমাকে ,তুমি গেছো।

তাই কি আমার সামনে দাঁড়াতে ভয় পেয়েছিলে?

তোমার কি একটা বারও মনে হয়নি হিমাদ্রী কেনো আমার সাথে কথা বলল না?ও তো চাইলেই আমার সাথে কথা বলতে পারতো।ঠিক যেমন আমার মনে হয়েছিলো।

আচ্ছা হিমাদ্র কেনো আমার সাথে কথা বললে না? চাইলেই তো আমার সাথে কথা বলতে পারতে। নাকি আমাদের একে অন্যের রাগ ,অভিমানটা এত পাহাড় সমান হয়ে গেছে  যেটা ভেদ করে আমাদের আর কখনো কথা বলা হবে না। আমাদের কখনো সামনা সামনি দেখা হলেও অপরিচিত মানুষের মত হেটে চলে যেতে হবে।ঠিক আগের মত পরিচিত মানুষের মত দুজনের দেখা হবে না ,দুজনের কথা হবে না।

সাদাত হোসাইন একটা কথা বলেন জানো তো ,“আমরা প্রত্যেকেই চাই অপর মানুষটা আমার মনের সমস্ত কথা বুঝে যাক ,বুঝে ফেলুক আমি কি চাই ,সব কিছুই করবে কিন্তু অপর পাশের মানুষটা।” আমাদের ক্ষেত্রেই হয়তো তাই হয়েছে।হয়তো আমি যেমন চাই তুমি আমাকে  ফোন দাও  ,তুমি আমার চিঠির উত্তর দাও ,দেখা হলে কথা বলো। তুমিও কি তেমনটাই চাও?

সব কিছুই হবে তবে অপর মানুষটা দ্বারা।

জানো যদি সত্যিই চেয়ে থাকো তবে আমি বলব আমি তোমাকে ভীষণ মনে করি ,মনে করি বললে ভুল হবে  তোমাকে আমার ভীষণ ভীষণ ভীষণ মনে পড়ে ।

আমাকে তোমার মনে পড়ে না? যদি কখনো একটা মুহুর্তের জন্যও মনে পরে একটা কল দিও ।

আজ আকাশে খুব সুন্দর চাঁদ উঠেছে। আমি দেখছি।হয়তো তুমিও দেখছো ।আমি দেখে তোমার কথা ভাবছি।তুমি হয়তো  অন্য কারো কথা ভাবছো। জীবন তো এইটাই ,প্রকৃতির নিয়ম এইটাই ।আমরা যেটা চাই সেটা পায় না আর যেটা চাই না সেটাই পায় ।আমি যাকে ভালোবাসি সে মানুষটা আমাকে ভালোবাসে না। আর সে মানুষটা যাকে ভালোবাসে সেই অন্য মানুষটা আবার তাকে ভালোবাসে না।

হিমাদ্র ভালো থেকো। অনেক অনেক অনেক ভালো থেকো পারলে একটা বার আমাকে মনে করো।মিথ্যে মিথ্যী হলেও মনে করো।

“ বিরক্তিকর হিমাদ্রী “


Smiley face