ডাক্তারের অভাবে রাজশাহীতে বিমান চালু করতে পারছেনা কতৃপক্ষ

184
Smiley face

করোনাভাইরাসের কারণে রাজশাহী হযরত শাহ্ মখদুম (র) বিমানবন্দরে দীর্ঘ ২ মাস বন্ধ ছিলো বিমান সেবা।
১জুন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভ্যন্তরিন রুটে বিমান চলাচল শুরু হলেও রাজশাহীতে আসেনি কোন বিমান। কেনো আসছে না বিমান এর উত্তর মিলছে না সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।

তবে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, ডাক্তার না থাকায় চালু হচ্ছে না বিমানবন্দরটি। বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি সকল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আর একজন এমবিবিএস ডাক্তারের জন্য তারা সিভিল সার্জনের কাছে আবেদন করেছেন।

রাজশাহী বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে অনেক আগে থেকেই কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। একজন মেডিকেল এসিস্টেন্ড দিয়েই চলতো স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ। মুলত পার্শ্ববর্তী পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারীকে দিয়ে শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তে এই কাজটি করানো হতো। করোনা সংক্রমনের প্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ থেকে বিমান ওঠানামা বন্ধ কাজ নেই ডাক্তারেরও।

রাজশাহী ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, রাজশাহী, বরিশাল ও কক্সবাজারে এখনও আমার বিমান চালু করতে পারিনি। বিমান চালুর জন্য এখনও বিমান বন্দর রেডি না। আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা টিকিটও বিক্রি করছি। তবে আমাদের সেগুলো বাতিল করতে হচ্ছে। রাজশাহী এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে এখানে এখনও মেডিকেল টিম বসাতে পারেনি। আমরা দফায় দফায় তাদের সাথে যোগাযোগ করছি। তবে তারা এখনও প্রস্তত হয় নি। এজন্য আমরা ঢাকায় হেড কোয়ার্টারেও আবেদন করেছি। এখন কত দিনে হবে সেটিও আমার জানি না। তবে হবে বলেছে।

তিনি বলেন, এখানে মেডিকেল টিমটি ভাইটাল ইস্যু। একারণে একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া বিমান পরিচালনা করা খুব কঠিন। সেখানে একজন এমবিবিএস ডাক্তার দরকার বলে আমি মনে করছি।
একই আবস্থার কথা বলছেন নোভোএয়ার। তাদের রাজশাহী সেলস বিভাগের দাবি, বিমানবন্দর চালু না হওয়ার কারণেই এখও রাজশাহীর সাথে কোন বিমান সুবিধা দিতে পারেনি। কবে নাগাদ চালু হবে সে তথ্যও তাদের জানায়নি রাজশাহী সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
যদিও সিভিল এভিয়েশন ও রাজশাহী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের সকল প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের ম্যানেজার সেতাউর রহমান বলেন, আমাদের সকল ধরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রতিদিনই আমাদের কর্মচারিরা এখানে আসছেন। তবে ঢাকা থেকে কোন নির্দেশনা না পাওয়ায় এখনও বিমান আসেনি। বিমান আসা না আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় ঢাকা থেকে।

ডাক্তার সংকটের কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের এখানে ডাক্তারের একটি ঘর আছে। ডাক্তার নেই। একজন মেডিকেল এ্যসিস্টেন দিয়েই স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিলো। তবে চলতি মাসের শুরুতেই আমরা একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চাহিদা জানিয়ে সিভিল সার্জন বরাবার আবেদন পাঠিয়েছি। তারা এখানও কোন ডাক্তার নিয়োগ দেন নি। তিনি বলেন, আমরাতো বিমান চলাচলের জন্য প্রস্তুত। যদি কোন ঘাটতি থাকে তবে সেটা ডাক্তার না থাকার বিষয়টি হতে পারে। এর বাইরে আমাদের কোন ঘটতি নেই।
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা.এনামুল হক বলেন, আমরা রাজশাহী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ডাক্তারের চাহিদা সংক্রান্ত একটি আবেদন পেয়েছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। কোন ডাক্তারের রোস্টার দেখে সেখানে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে রাজশাহী বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। এর আগে এখানে প্রতিদিন ইউএসবাংলার ২টি এবং বাংলাদেশ বিমান ও নোভোএয়ারের একটি করে মোট ৪ টি বিমান চলাচল করতো।


Smiley face