রামেক হাসপাতালে করোনার ৫২ নমুনা উধাও

49
Smiley face

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা পরীক্ষার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আট পুলিশ সদস্য, এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পেশার ৫২ জনের নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব নমুনা গত ১২ জুলাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাবে হস্তান্তর করা হয় পরীক্ষার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব নমুনার ফল পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমদ শিমুল বলেন, এসব নমুনা পরীক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ল্যাবে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পেরেছেন, ৫২টি নমুনা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ল্যাবের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, এগুলো দুই দফা পরীক্ষার পরও ইনভ্যালিড এসেছে। তাই শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খানকে সেই নমুনাগুলো আবার দিতে বলা হয়েছে।

আর সায়েরা খান বলছেন, তারা এই নির্দেশনা পেয়েছেন। এখন আবার নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তবে কেউ দিতে না চাইলে তার টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা সন্দেহভাজন বিবেচনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ গত ১২ জুলাই বা ৫২ জনের নমুনা রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাবে হস্তান্তর করে পরীক্ষার জন্য। তার ২/৩ দিন আগে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এসব নমুনার ফল পাওয়া যায় নি। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজেই যোগাযোগ করেন রামেক ল্যাবের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। এর পরই তিনি জানতে পারেন নমুনাগুলো খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে। এ ঘটনা জানার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমদ শিমুল সরাসরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

ডা. শিমুল বলেন, তিনি ল্যাব সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন নমুনাগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এখন কেউ যদি করোনা আক্রান্তও থাকে তবে সেটিও নেগেটিভ আসবে। কারণ ১৪ দিন পার হয়ে গেছে। এছাড়া অনেকেই আর নমুনা দিতে চাইবে না।

এদিকে জানা গেছে, ৫২টি নমুনা হারিয়ে যাওয়ায় পুনরায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে রামেক ল্যাবে পাঠাতে বলা হয়েছে মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের পক্ষ থেকে। ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খান বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাব থেকে গত দুই তিনদিন আগে পুনরায় ওই সব ব্যক্তির নমুনা বিনামূল্যে সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠাতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে মাত্র দুই জন নমুনা সংগ্রহকারী আছেন। এর মধ্যে একজন করেনায় আক্রান্ত। আর অপরজন সুস্থ হয়েছেন। তবে আবারও তার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

এখন ঐ ৫২ জনের মধ্যে একজনের নমুনা সংগ্রহ করে মঙ্গলবার পাঠানো হয়েছে। অনেকেই দিতে চাচ্ছেনা বা চাইবেন না তাদরে বিষয়ে আপনাদের কী পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তারা যেহেতু টাকা পরিশোধ করে নমুনা দিয়েছিলেন তাই এগুলো বিনামূল্যেই আবার সংগ্রহ করা হবে। তবে যদি কেউ আর পরীক্ষা না করতে চান তাহলে তাকে তার পরীক্ষার জন্য দেয়া নির্ধারিত ফি ফেরত দেওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

নমুনা হারানোর বিষয়টি স্বীকার না করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সাবেরা গুলনাহার বলেন, শিবগঞ্জের ৫২নমুনা আমরা ১২ তারিখ পাই। এরপর সেগুলো ১৩ ও ১৪ তারিখ পরীক্ষার চেষ্টা করা হয়। তবে সেগুলো ইনভ্যালিড হয়ে গেছে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। তাদের আবারো নমুনা দিলে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, বিষয়টি ঠিক হারিয়েছে বলা যাবে না। তারা আমাদের কোন পরীক্ষার রেজাল্ট দিতে পারে নি। আজ রাতে তারা আমাকে জানাতে চেয়েছেন।


Smiley face