লোকসানে বিক্রি হলো ‘রাজামশাই’

38
Smiley face

হিলির মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামের খামারি মোজাম্মেল হক জোয়ারদার চার বছর ধরে লালন-পালনের পর এবারের কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন ‘রাজামশাই’কে। ১২শ’ কেজি ওজনের ষাঁড়টির পেছনে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। দুই লাখ লাভের আশায় ৮ লাখ টাকা দাম চেয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন কিছুটা কম হলেও ছেড়ে দেবেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত লোকসান দিয়ে ৩ লাখ টাকায় ষাঁড়টি বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনে দেখে গরুটি কিনে নেন ঢাকার এক ক্রেতা।

মোজাম্মেল হক জোয়ারদার বলেন, চার বছর ধরে অত্যন্ত যত্ন করে অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের বীজ থেকে জন্ম নেওয়া গরুটিকে বড় করেছি। আকারে বেশ বড় আর চলন-বলনে রাজার মতো হওয়ায় নাম দিই ‘রাজামশাই’। এটির উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, লম্বা ১১ ফিট ৯ ইঞ্চি, ওজন ১২শ’ কেজি। ক্রেতা না থাকায় লোকসান দিয়েই গরুটি বিক্রি করেছি। এছাড়া কোনও উপায় ছিল না।

এদিকে কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেও দিনাজপুরের হিলিতে প্রস্তুত করা বড় গরু ‘বিন লাদেন’ এখনও বিক্রি হয়নি। খামারি ১৫ লাখ টাকা চাইলেও দু’-একজন ক্রেতা এটির দাম বলেছেন ৪ লাখ। এতে গরুটি বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছাতনি চারমাথার খামারি মাহফুজার রহমান বাবু। তিনি বলেন, নিজের খামারের গাভী থেকে জন্ম নেওয়া ব্রামহা জাতের গরুটিকে চার বছর ধরে লালন-পালন করে এবারের কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছিলাম। সাদা-কালো ষাঁড়টির উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, লম্বায় ১১ ফিট ৬ ইঞ্চি। ওজন প্রায় ১১শ’ কেজি। দাম রেখেছিলাম ১৫ লাখ টাকা। কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে এর সঙ্গে ফ্রি হিসেবে দেশীয় ছোট আকারের একটি ষাঁড়ও ক্রেতাকে উপহার দেবো ঘোষণা দিয়েছিলাম। চট্টগ্রামের একজন ক্রেতা এটির দাম বলেছেন ৪ লাখ টাকা। এরপর আর কেউ খোঁজও নেয়নি। এত বড় গরু লালন-পালন করে দাম পাওয়া নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।


Smiley face