ঢাকায় গরু সংকট ক্রেতারা ক্ষুব্ধ

20
Smiley face

গেল দুবছর ন্যায্য দামে গরু বিক্রি করতে না পেরে অনেক ব্যাপারীকে মন খারাপ করে ঢাকা ছেড়ে ফিরতে দেখা গেছে। তবে এ বছর করোনা ও বন্যার কারণে ঢাকায় গরু নিয়ে ব্যাপারী কম আসায় ভালো দাম পাচ্ছেন তাঁরা। বিপরীতে গরু কম ও দাম বেশি বলে কিছুটা ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

গরু বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ভোররাত ৩টার মধ্যে রাজধানীর গরুর হাটগুলো থেকে বেশির ভাগ গরু বিক্রি হয়ে যায়। ঢাকার বড় গরুর হাট গাবতলী, আফতাবনগর ও পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠের অন্তত ১০ জন গরুর ব্যাপারী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এবার ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পেরে তাঁরা অনেক খুশি। গত দুবছর অনেক গরু ব্যাপারীর লোকসান হয়েছে।

ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পেরে খুশি ব্যবসায়ী বজলুর রহমান।
ঝিনাইদহ থেকে শনির আখড়ায় ৮টি গরু আনেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গতবারও আমি এই শনির আখড়া হাটে গরু নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারিনি। তবে এবার আমার লাভ হয়েছে। গরু কম থাকায় ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পেরেছি।’

এবার ভালো দামে গরু বিক্রি করে হাসিমুখে ঢাকা থেকে গরুর ব্যাপারীরা বিদায় নিলেও ঢাকার ক্রেতারা ক্ষুব্ধ। গরুর সংখ্যা কম থাকায় চড়া দামে গরু কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের একজন চানখাঁরপুলের মাসুদ মিয়া। পাঁচটি হাট ঘুরে গরু না পেয়ে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে আসেন তিনি। মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাঠে গরুর সংকট থাকায় যে গরুর দাম ১ লাখ টাকা, তা দেড় লাখ টাকা চেয়ে বসে থাকছেন গরুর ব্যাপারীরা। গরু ব্যবসায়ীদের কাছে আমরা এবার জিম্মি হয়ে গেছি।’

এবার গরু এসেছে কম

আলী আকবর কুষ্টিয়া থেকে ১২টি গরু নিয়ে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে আসেন গত রোববার। তখনো ধূপখোলার মাঠে গরু ছিল কম। গত বুধবার ধূপখোলার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধেক মাঠ ফাঁকা। বাঁশ-খুঁটি আছে কিন্তু সব জায়গায় গরু নেই। তখনো হাটে ক্রেতার আনাগোনা কম ছিল। সেদিন আলী আকবর প্রথম আলোকে বলেছিলেন, পাঁচ বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার ধূপখোলার মাঠে আসেন। কিন্তু কখনো এত কম গরু মাঠে দেখেননি। করোনার কারণে তাঁর এলাকার অনেকেই ঢাকায় গরু আনেননি। কারণ তাঁরা মনে করেছেন, করোনায় আর্থিক সংকটে আছে সবাই। ফলে অন্যবারের মতো হয়তো গরুর চাহিদা থাকবে না।

মাঠে গরুর সংখ্যা কম থাকায় গরুর সংকট হতে পারে বলে সেদিন আশঙ্কা করেছিলেন আলী আকবর।

গত বুধবার ধূপখোলা, ধোলাইখাল ও আফতাবনগর গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, অন্যবারের তুলনায় গরুর সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। হাটে ক্রেতা কম থাকায় ব্যাপারীরা তখন গরু নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আফতাবনগর হাটে অপেক্ষাকৃত কম দামে গরু কেনেন ক্রেতারা।

আফতাবনগর হাট থেকে সেদিন বিকেলে একটা মাঝারি আকৃতির গরু কেনেন আবদুল মজিদ। তিনি সেদিন বলেছিলেন, গরু কিনে তিনি খুশি। মাঝারি আকৃতির গরুটি তিনি ৬৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। অন্যবারের তুলনায় গরুর সংখ্যা কিছুটা কম।

আফতাবনগরে শেরপুর থেকে ৬টি গরু নিয়ে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, দুটি গরু তিনি কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। কারণ ক্রেতার সংখ্যা কম। বাকি গরুগুলো তিনি বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন না।

কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে রাজধানীর গরুর হাটের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দলে দলে ক্রেতারা আসতে থাকেন। ক্রেতার সংখ্যা যত বাড়তে থাকে, গরু ব্যাপারীরা গরুর দাম বেশি হাঁকাতে শুরু করেন। কিন্তু রাত ১০টার পরও ক্রেতার সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। মাঠভেদে ভোর ৩টা নাগাদ শনির আখড়া, শ্যামপুর, ধোলাইখাল, ধূপখোলাসহ অন্যান্য হাট প্রায় গরুশূন্য হয়ে পড়ে।

মানিকগঞ্জ থেকে ছয়টি গরু নিয়ে গাবতলীর মাঠে আসেন রঞ্জিত আলী। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি ৫টি গরু বিক্রি করেন। রঞ্জিত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে হাটে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাত ১০টার পর ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে মাঠ থেকে প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে যায়।’
প্রায় একই কথা বলেন শনির আখড়ায় গরু নিয়ে আসা ফরিদপুরের গরু ব্যাপারী আনিস উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরেও কিন্তু মাঠভরা গরু ছিল। টুকটাক ক্রেতা ছিল। কিন্তু বিকেলের পর থেকে ক্রেতার সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। রাত ১০টা নাগাদ ক্রেতার সংখ্যা এত বেড়ে যায়, তখন মাঠ ধীরে ধীরে গরুশূন্য হতে থাকে। রাত ২টা নাগাদ শনির আখড়ার গরুর হাট পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়।


Smiley face