সিনহা হত্যা মামলায় এসপি মাসুদ কে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করলেন সিনহার বোন

Smiley face

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেনকে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে এই আবেদন করেন সিনহার বড়বোন ও সিনহা হত্যা মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ৫ আগস্ট সিনহা হত্যার ঘটনায় আমরা টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেছিলাম। এখন সেই মামলায় জেলার এসপি এ বি এম মাসুদ হোসেনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ফৌজদারি আবেদন করা হয়েছে। আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
এতদিন পর সিনহা হত্যা মামলায় এসপিকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্তির কারণ কি ? জানতে চাইলে আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, আমরা এতদিন যাচাই বাছাই করেছি, এরপর তাঁর (এসপি) ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, এসপি মাসুদ হোসেন শুরু থেকে সিনহা হত্যা মামলার তদন্তে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে চলেছেন। তিনি (এসপি) সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ওসি প্রদীপ ও পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। আসামিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।

আবেদন দাখিলের সময় মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এসপি মাসুদ হোসেন শুরু থেকেই সিনহা হত্যা মামলার আসামিদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। উনি (এসপি) ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তাই তাঁকে ( এসপি) আসামি করার আবেদন জানানো হয়েছে।
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষে টেকনাফ মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় সিনহাকে আসামি করা হয়। পরে সিনহার বোনের করা মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতসহ ৯ পুলিশকে আসামি করা হয়। এরপর ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ আদালতে আত্মসম্পর্ন করেন। একজন এসআই ও একজন কনস্টেবল পলাতক রয়েছেন।

(সূত্রঃ প্রথম আলো)

ফ্ল্যাশ নিউজ/আফসানা


Smiley face