আড়ানী পৌরসভায় ভোটের হাওয়া, ডজন খানেক মনোনয়ন প্রত্যাশী

30
Smiley face

বাঘা(রাজশাহী)প্রতিনিধি :
রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি‘র দলীয় মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী মুক্তার আলী।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে সাবেক পৌর প্রসাশক ও বিএনপি‘র দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলামকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। মিজানুর রহমান মিনুর মৃত্যুর ৬ মাসের মাথায় উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বাবুল ইসলামকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন, বিএনপির মনোনিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম।
আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এবার মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন আওয়ামীলীগ ও বিএনপিসহ ডজন খানেক প্রার্থী। আগাম প্রস্তুতি নিয়ে এসব প্রার্থীরা জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। আর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারসহ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে গণ সংযোগের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে।
আবার অনেকে দলীয় নেতার মুক্তি দাবি করে ছবি সংবলিত পোষ্টার -ফেস্টুন সাটিয়ে নিজের প্রচারও করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও প্রার্থীতা জানান দিয়ে নিজের গুনকির্তন করছেন কেউ কেউ। সব মিলে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে আড়ানী পৌরসভায় ।
মেয়র পদে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তারা হলেন, আড়ানি পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আড়ানি পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তার আলী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শাহীদ,সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ কলিন্স,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান নিপ্পন, আড়ানি পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান জুয়েল,উপজেলা আ‘লীগের সদস্য ও জেলা মহিলা আ‘লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়জয়ন্তি মালতি ছাড়াও সাঁতার প্রতিযোগিতায় জাতীয় পুরুস্কারপ্রাপ্ত আওয়ামীলীগের মহিলা নেত্রী, প্রভাষক মীর হানুফা নছিম, পৌর আওয়ামীলীগের প্রয়াত নেতা বাবুল ইসলামের জৈষ্ঠপুত্র পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রিবন আহম্মেদ বাপ্পী।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, পৌর বিএনপি‘র সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিগত নির্বাচনে বিএনপির দলীয় পরাজিত মেয়র প্রার্থী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তোজ্জাম্মেল হক এবং পৌর বিএনপি‘র যুগ্ম আহবাহয়ক সুজাত আহমেদ তুফান।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে কথা হলে তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন,দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা অপরদিকে এত আগেই কিছু ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ। আবার কেউ বলেছেন পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা।
পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড়ের প্রবীণ ভোটার আব্দুল নুরাফ মন্ডল (৬৫) বলেন, শিক্ষিত ও উন্নয়নমুখী নতুন কেউ এলে পৌরসভার উন্নয়ন বেশী হবে বলে প্রত্যাশার তার। ৫নং ওয়ার্ড়ের নতুন ভোটার মামুনুর রশিদ বলেন,ভোটার হতে পেরে আমি আনান্দিত।আমার প্রথম ভোটটা সৎ,যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থী দেখে দিব।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, নির্বাচনে তফশিল ঘোষনার পর পৌর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাছাইকৃত নামের তালিকা জেলায় পাঠানো হবে।জেলা কমিটি কেন্দ্রে পাঠাবে।কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেই দলীয় প্রার্থী হবে। নেতাকর্মীরা তাদের পাশেই থাকবেন।

উপজেলা বিএনপি‘র আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন বলেন, বিএনপি‘র অনেক নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না তা দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত দেবে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যাকে দলীয় মনোনয়ন দিবে,নেতাকর্মীরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে ভোটের মাাঠে কাজ করবেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মুজিবুল আলম বলেন,মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


Smiley face