রোজ ৫ মিনিট সময় দিন, তাতেই ওজন কমবে

6
Smiley face

কিছু অভ্যাস নিজের মতো করে তৈরি করে  ফেললে ওজন কমানোয় সুবিধা হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সারাদিনের যত খাবার আছে তার মধ্যে প্রাতঃরাশ হতে পারে স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে উপকারী। যারা প্রাতঃরাশ এড়িয়ে চলে তাদের ওজন বাড়ার এবং ধমনীতে বিপজ্জনক চর্বি জমা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যারা প্রাতঃরাশ এড়িয়ে গেছে বা অতি সামান্য খেয়েছে ভালোভাবে স্বাস্থ্যসম্মত প্রাতঃরাশ করা ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের ধমনীতে চর্বি জমে বেশি। খালি পেটে থাকা অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ারও লক্ষণ ধরা পড়েছে। প্রাতরাশ এড়িয়ে গেলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও দেখা দেয়। তাই সকালে উঠে হুড়োহুড়ি করে প্রাতঃরাশ করা বা বাতিল না করা নয়। বরং ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রাতরাশের পরিকল্পনা করে নেওয়া ভাল।

সময় পেলেই হাঁটা অথবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা জরুরি। তাতে তেমন করে আলাদা সময় না দিলেও মেদ ঝরিয়ে ফেলা যায়। তবে ওজন কমাতে ব্যায়ামের গুরুত্বও কিছুমাত্র কম নয়। ব্যায়াম শরীরে জমা বাড়তি ক্যালোরি পুড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্যে করে। ওজন কমাতে হলে আপনি যতটা ক্যালোরি গ্রহণ করছেন তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্যালোরি পুড়িয়ে ফেলা প্রয়োজন। তাছাড়া ব্যায়াম হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, মেদবহুলতা, অস্টিও পোরোসিস ও কয়েক ধরনের ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। তবে ওজন কমাতে ব্যায়াম শুরু করার পর অল্প কয়েক কিলো ওজন বাড়লে হতাশ হবেন না। ওজন বাড়লেই যে শরীরে বাড়তি মেদ জমা হয়েছে এটা নিশ্চিতভাবে মনে করার কারণ নেই। স্বল্পমেয়াদী ওজন পরিবর্তনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী হলো জল। ডিহাইড্রেশন ঠেকানোর জন্য শরীর অনেক সময় বাড়তি জল জমিয়ে রাখে যার জন্য সামান্য কিছু ওজন বাড়তে পারে। সেই হিসেবে ব্যায়াম বাদ দিলে প্রথম দিকে কয়েক কিলো ওজন কমতে পারে। আজকাল অনেক বিশেষজ্ঞ ওয়ার্কআউটের আগে এক কাপ হালকা উষ্ণ কালো কফি খেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ওজন কমাতে হলে ভাল ঘুম হওয়া প্রয়োজন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি অ্যাক্টিভ থাকার দরকার নেই। অনেকই কাজের শেষে রাত অবধি জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত থাকেন। সেটা বন্ধ করে ঘুম বাড়াতে হবে। রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম হলে চিনি খাওয়ার চাহিদা কমে যায়। পরোক্ষভাবে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। পুরো খাবার ভালমতো চিবিয়ে খাওয়া হজমের জন্যই যে শুধু ভাল তাই নয়, এতে পেট ভরে খাওয়ার অনুভূতি হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, এমনকি কমানোও যায়। কৃত্রিম চিনি খাওয়া ৪ লাখের বেশি লোকের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে যারা ওজন বৃদ্ধি ঠেকাতে এমন চিনি খেয়েছে তাদের ওজন তো কমেইনি, বরং বেড়েছে।

সূত্র:এবিপি আনন্দ


Smiley face