গ্রামের মেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় পিছিয়ে

39
Smiley face

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি
বর্তমানে নারী শিক্ষার্থী অনেক এগিয়ে ।তবে লেখাপড়ার দিক দিয়ে শহরের মেয়েদের তুলনায় গ্রামের মেয়েরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় সমান ভাবে তাল মিলিয়ে গেলেও যত উচ্চ শিক্ষার দিকে এগুচ্ছে তত বেশি গ্রামের মেয়েরা পিছিয়ে পড়ছে।

এর অন্যতম কারণ হচ্ছে দারিদ্রতা আর সামাজিক কুসংস্কার।
গ্রাম থেকে ছেলে শিক্ষার্থী যেভাবে উঠে আসে ঠিক সেভাবে মেয়েরা উঠে আসতে পারেনা ।মেয়েদের পড়তে হয় নানা রকম সমস্যার মধ্যে।

আর্থিক ,সামাজিক কারণে গ্রামের মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে।রাজশাহীর আশেপাশের জেলাগুলোতে এই রকম অনেক চিত্র দেখা যাচ্ছে।
চাপাঁইনবাবগঞ্জ জেলার নাচল থানার মল্লিকপুর গ্রামের শারমিন (২১) বলেন,ছোট বেলা থেকে পড়ালেখায় ভালো ছিলাম।এসএসসি পাস করে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম ,ভর্তিও হয়েছিলাম ।স্বপ্নছিলো উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে ভালো কিছু করবো।

কিন্তু এইসএসসি পরিক্ষা দেবার আগেই বাবা মা বাড়িতে ডেকে বিয়ের পিরিতে বসিয়ে দেন।আমার বড় ভাই ঠিকই ঢাকায় থেকে পড়ালেখা করেন।বিয়ের পর এইসএসসি পরিক্ষা দিতে পারলেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা হয়নি।এভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে গ্রামের মেয়েরা বৈষম্যেও শিকার হচ্ছে প্রতি  নিয়ত।

অর্থনৈতিক বা সামাজিক কারণে তারা ছেলেদের তুলনায পিছিয়ে পড়ছে।
গ্রামে সাধারণত উচ্চ শিক্ষার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই।তাই এসএসসি বা এইসএসসি পাস করে উচ্চ শিক্ষা নিতে গেলে শহরে আসা ছাড়া শিক্ষার্থীদের উপায় নেই।আর শহরে আসতে গিয়ে পিছিয়ে পড়ে মেয়ে শিক্ষার্থীরা।আখি নামের আরেক মেয়ে বলেন,তিনি খলসিদ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেনীতে পড়েন।

গ্রামের অনেক অভিভাবক ধারণা করেন মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে কী হবে?যত যায় করুক না কেনো বিয়ের পর তো রান্না ঘর বাচ্চায় সামলাতে হবে।তাই অনেক অভিভাবক এসএসসি পাস করার আগেই বা পাস করার পরপরই বিয়ে দিয়ে দেন।

আবার কেউ এসএসসি বা এইসএসসি পাস করার পর ডিগ্রি পর্যন্ত এগোতে পারেন না।অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার অভিযোগ তুলে বেশির ভাগ মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ করে দেন। তারা ভাবেন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেই নিরাপত্তা হয়ে যায়।

মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মংলু মিয়া বলেন,গ্রামের মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের সব থেকে বড় বাধা হচ্ছে দারিদ্রতা।আবার অভিভাবক অশিক্ষিত হওয়ার কারণেও মেয়েরা লেখাপড়াই পিছিয়ে।

অনেক অভিভাবক মনে করেন মেয়েরা বেশি পড়ালেখা করলে বিয়ে দিতে সমস্যা হবে,মিলিয়ে জামাই পাওয়া যাবেনা।এরকম নানান বৈষম্যেও কারণে অনেক মেয়ে স্কুলের গন্ডিটুকুও পার হতে পারেনা।


Smiley face