অপেক্ষা ( ছোট গল্প )

14
Smiley face

লেখক:সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি
চারিদিক স্তব্ধ।জানালার সাদা পর্দা বাতাসে উড়ছে।রহিত একদৃষ্টিতে তাঁকিয়ে রয়েছে তরীর দিকে। তরীর অক্সিজেন এবং রক্ত চলছে।কি মায়াবি মুখটা। রহিতের বার বার মনে হচ্ছে এই বুঝি তরী উঠে বলবে এই শুনো আমার চালতার আচার খেতে ইচ্ছে করছে। নদীর ধারে যেতে ইচ্ছে করছে। এই আজ বিকালে দেখা করো।
কিন্তু না ,বলছে না। গত তিন মাস থেকে তরী এই কেবিনে এ ভাবে শুয়ে রয়েছে।কারন তরীর ব্লাড ক্যান্সার।
বর্তমানে তরীর শরিরে রক্ত নেই। যে টুকু রয়েছে সেটুকুও নষ্ট।তার শরীরে রক্ত উৎপন্ন বন্ধ হয়ে গেছে।
আজ রহিতের খুব রাগ হচ্ছে তরীর উপর। ঠিক মত নিজের যত্ন কখনোই নিতো না মেয়েটা। কিন্তু রহিতের ঠিক নিতো। রহিত খেয়েছে কি না,পড়তে বসেছে কিনা, ঘুমিয়েছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি।
তরীর ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে রহিতের গলার আওয়াজ না শুনলে অস্থির ভাবে কাটত দিনটা। কিন্তু সে তরী তিন মাস থেকে মৃতের মত পড়ে রয়েছে হসপিটালের বেডে।
তরীর মাঝে মধ্যেই নানা রকম সমস্যা হত। ঠিক মত খেতে পারত না, বমি আসত, মাথা ঘুরাতো,কখনো কখনো নাক মুখ দিয়ে রক্ত উঠতো।
এ সব দেখে রহিত তরীকে অনেক বার ডাক্তারের কাছে যেতে বলেছে কিন্তু তরী বলেছে ধুর ঠিক মত খাই না বলে এমন হয়েছে মনে হয়। কিছু হবে না সব ঠিক হয়ে যাবে।কেনো যে তরী নিজের যত্ন নিতো না কে জানে। ডাক্তারের কাছে না যাবার জন্য তো রহিত তরীর উপর রাগ করে তিন দিন কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলো। তখন অবশ্য তরী তার বান্ধবি স্রেয়াকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছিলো। কিন্তু ডাক্তার যে টেস্ট গুলো দিয়েছিলো সব গুলো করাইনি।
তরী রহিতকে বলেছিলো তেমন কিছু না রক্ত শূন্যতা হয়েছে। ঔষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু হয়তো ঠিক মত ঔষুধও খাইনি।
তরী এমন কেনো রহিত বুঝে উঠতে পারে না। যদি প্রথমেই ঠিক মত ডাক্তার দেখানো হত তাহলে হয়তো এমন হত না। আজ তরী দিব্বি হেসে রহিতের সাথে থাকতে পারতো।
 চারিদিকে বিষন্নতার বাতাস বয়ছে।।হঠাৎ করেই তরীর অক্সিজেনটা বন্ধ হয়ে গেলো।রহিত চিৎকার দিয়ে ডাক্তারকে ডাকলো।ডাক্তার এসে তরীকে ভালো মত দেখে সাদা কাপড়টা দিয়ে ঢেকে রহিতের কাধে হাত রেখে sorry বলে চলে গেলেন।
রহিত সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
দেখতে দেখতে চার বছর পার হয়ে গেছে। রহিত এখন মানসিক হাসপাতালে ভর্তি। তার সেই ছোট্ট ঘরটায় তরীর ছবি আর তরীর নামে পরিপুর্ন। রহিত এখনো সকালে নষ্ট ফোনটা হাতে নিয়ে তরীর সুপ্রভাত মেসেজ পাবার অপেক্ষা করে। তরীর ফোন আসার অপেক্ষা করে।
অপেক্ষা করে তরী হয়তো ফোন দিয়ে বলবে কোথায় তুমি?চলো না ঘুরতে বেরোই।
সমাপ্ত

Smiley face