ঢাকাকে চমকে দিয়ে জয় রাজশাহীর

51
Smiley face

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম ম্যাচে মিনিস্টার গ্রুপের বিপক্ষে ২ রানের নাটকীয় জয় পেল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। রাজশাহীর জয়ে বল এবং ব্যাট হাতে দারুণ ভূমিকা রাখেন ইয়াং মাহেদি হাসান। প্রথমে ব্যাট করা রাজশাহী ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ দাড় করায় ঢাকার সামনে। জবাবে ঢাকা দারুন লড়াই করলেও লাস্ট ওভারে মাহিদের বোলিং নৈপুণ্যের কাছে আর পেরে উঠতে পারেনি।

টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় মুশফিকের বেক্সিমকো ঢাকা। শান্ত অবশ্য বলেছিলেন টসে জিতেলে তারা ব্যাটই করতেন। রাজশাহীর হয়ে ইনিংস গোড়াপত্তন করতে আসেন আনকোরা আনিসুল ইমন এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ঢাকার হয়ে আক্রমণে আসেন রুবেল হোসেন।

প্রথম ওভারে দারুন বোলিং করে রুবেল রাজশাহীকে চেপে ধরলেও পরের ওভারে প্রেশার রিলিজ করেন আনিসুল ইমন। রানাকে ব্যাক টু ব্যাক বাউন্ডারি হাকিয়ে দারুণ শুরু করেন তিনি। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেন নি শান্ত। নাসুমকে স্লগ সুইপ খেলে বাউন্ডারিতে তানজিদ হাসানের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আউট হবার আগে ২ ছক্কায় খেলেন ১৬ বলে ১৭ রানের ইনিংস।

শান্তর মত রনি তালুকদারও ইনিংস লম্বা করতে পারেন নি। মুক্তার আলীকে ছক্কা হাকাতে গিয়ে লং অফে ধরা পড়েন তিনি (৬)। একই পথে হাটেন আশরাফুলও। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে জাতীয় দলে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে পাখির মত উড়ে এক হাতে আশরাফুলের ক্যাচ লুফে নেন নাইম শেষ। ফেরেন ৯ বলে ৪ করে। মুহুর্তেই পথ হারায় রাজশাহী। পরপরই ফিরে যান সেট ব্যাটসম্যান আনিসুল (৩৫)।

পথ হারিয়ে ধুকতে থাকা রাজশাহীকে পথ দেখান নুরুল হাসান সোহান এবং মাহেদি হাসান। উইকেটের চতুর্পাশে খেলতে দুর্দান্ত সব শট। মাত্র ৩১ বল খেলেই মাহেদি তুলে নেনে ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক। অন্যদিকে তাকে দারুণ সঙ্গ দেয়া নুরুল অবশ্য ফিরে যান মুক্তার আলীর বলে। খেলেন ২০ বলে ৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। সাথে সাথে ফিরে যান অর্ধশতক হাকানো মাহেদি।

শেষের দিকে আর কেও বলার মত স্কোর করতে না পারায় ৯ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর ইনিংস থামে ১৬৯ রানে। ঢাকার হয়ে মুক্তার আলী ৩ টি, নাঈম-নাসুম-মেহেদি নেন একটি করে উইকেট।

জবাবে তানজিদ হাসান এবং ইয়াসির আলীর ব্যাটে শুরুটা ভালই হয় বেক্সিমকো ঢাকার। দারুণ শুরু করে রান আউটে কাটা পড়েন তানজিদ। করেন ১১ বলে ১৮ রান। দ্রুতই ইয়াসির আলী ফরে যান। ৩ নাম্বারর নেমে ১৭ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে আরাফাত সানির বলে আউট হবার আগে দলকে ভালো অবস্থানে রেখে আসেন নাঈম শেখ।

চতুর্থ উইকেটে ৭১ রান যোগ করে ঢাকাকে জয়ের আভাস দিচ্ছিলেন আকবর আলী এবং মুশফিকুর রহিম। তবে মুকিদুলের বলে স্কয়ার লেগে ফরহাদ রেজার ক্যাচ হয়ে ফিরে যান আকবর আলী (৩৪)। পরের ওভারেই এবাদতকে স্কুপ করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে গেলে ঢাকার জয়ের আশা কিছুটা ফিকে হয়ে যায়।

১২ বলে ৩০ রানের সমীকরণ হাতে নিয়ে ১৯ তম ওভারে বল হাতে আসেন ফরহাদ রেজা। ৩ ছক্কা হাকিয়ে ফরহাদ রেজার ওভারে নেন ২১ রান। শান্তর বুদ্ধিদিপ্ত ক্যাপ্টেন্সি দেখা গেছে এদিন। ৯ রান ডিফেন্ড করতে বোলিং অ্যাটাকে নিয়ে আসেন মাহেদিকে। মাহেদি প্রথম তিন বলে ডট দিয়ে চাপে ফেলেন মুক্তার আলীকে। পরের বলে ৪ হলেও পরের বল নো দিয়ে বসেন মাহেদী। কিন্তু ফ্রি হিট করেন ডট বল। লাস্ট বলে ৪ রান দরকার হলে নিতে পারেন কেবল ১। ফলে ২ রানের জয় নিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করলো রাজশাহী।

রাজশাহীর হয়ে একটি করে উইকেট নেন মাহেদি, এবাদত, আরাফার সানি এবং ফরহাদ রেজা। অলরাউন্ডিং পার্ফমেন্সে করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন অলরাউন্ডার মাহেদি হাসান।


Smiley face