ক্ষমা চাইলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক সতীর্থের সাথে মারমুখী আচরণের পর

21
Smiley face

“প্রথমত আমি গতকালের ম্যাচে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য ভক্ত ও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি,” এভাবে নিজের ফেসবুক পাতায় একটি বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম।

ওই পোস্টে তিনি ঢাকার দলের খেলোয়াড় নাসুম আহমেদের সাথে একটি ছবি দেন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় এবং সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের এই ক্ষমা প্রার্থনা সোমবার ক্রিকেট মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

ওই ঘটনার যে ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা যায় যে ফিল্ডিং করার সময় উইকেট-কিপার মুশফিক তার সহ-খেলোয়াড়ের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। আর এরপর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় মুশফিকের আচরণ নিয়ে।

ফেসবুক পোস্টে এই তারকা খেলোয়াড় বলেন, আমি আমার সতীর্থ নাসুম আহমেদের কাছে ইতোমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি। আমি সর্বশক্তিমানের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী।

“আমি বিশ্বাস করি আমার অঙ্গভঙ্গি গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমি কথা দিচ্ছি মাঠে বা মাঠের বাইরে আমি এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি করবো না।”

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম এলিমিনেটরে ঢাকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে দেখা যায় দু’বার তিনি তার সতীর্থ নাসুম আহমেদের দিকে হাত তুলে মারমুখী ভঙ্গি করছেন।

প্রথমবার দ্বিতীয় ইনিংসের ১৩তম ওভারে – সে সময় নাসুমের করা বল সার্কেলের ভেতরে ঠেলে দিয়ে রান নেন ফরচুন বরিশাল দলের আফিফ হোসেন। নাসুম ও মুশফিকুর রহিম দু’জনেই বলটি ধরতে ছুটে যান।

এরপর দেখা যায় মুশফিক বল ধরেই মারের মতো ভঙ্গি করছেন নাসুমের দিকে।

এরপর তাকে স্ট্যাম্পের পেছনে থাকতে ইশারা করেন মুশফিকুর রহিম।

পরে ১৭তম ওভারে আফিফ হোসেন পুল করলে বল শর্ট ফাইন লেগের দিকে বল যায়, মুশফিকুর রহিম বলটি ধরতে দৌঁড় দেন।

ওই একই জায়গায় ফিল্ডার ছিলেন নাসুম আহমেদ। তিনিও বলটি ধরতে যান প্রথমে, কিন্তু পরে মুশফিককে দেখে পিছিয়ে যান। তখন মুশফিক ক্যাচটি ধরে নাসুমের দিকে আবারও একই ভাবে মারার ভঙ্গি করেন।

এরপর ক্রিকেট ফ্যানরা সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখান। বেশিরভাগ সমর্থক তার নিন্দা জানান, তবে তার প্রতি সমর্থনসূচক বাক্যও ছিল অনেক ভক্তের কাছ থেকে।

মুশফিকুর রহিমের সতীর্থ নাসুম আহমেদ এ নিয়ে খুব বেশি খোলাসা করে কিছু বলতে চাননি।

তার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ম্যাচে কিছুই হয়নি। আমরা খেলেছি, জিতেছি। এর বাইরে যেটা হয়েছে সেটা ম্যাচের মধ্যে রাগের মাথায় হতেই পারে।”

“পার্ট অফ দ্য ম্যাচ” – ঘটনাটিকে এভাবেই দেখতে চেয়েছেন নাসুম আহমেদ। তিনি বলেন, এখানে খুব গুরুতর কিছু হয়নি। যা হয়েছে মাঠে এগুলো হয়ই।

এর আগে নাসুম আহমেদ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও, নির্বাচকদের রেডারে আছেন এই স্পিন বোলার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি।

সূত্র:বিবিসি


Smiley face