হারানোর পথে ১০ প্রাকৃতিক সম্পদ

21
Smiley face

অ্যামাজন থেকে ডেড সি পর্যন্ত এমন কিছু প্রাকৃতিক সম্পদ আছে যেগুলো এখন অতিরিক্ত পর্যটন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়৷

অ্যামাজন রেইনফরেস্ট: ধুঁকছে পৃথিবীর ফুসফুস

দক্ষিণ অ্যামেরিকার নয়টি দেশে ছড়িয়ে থাকা এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টে রয়েছে অনেক রকমের গাছপালা এবং প্রাণী৷ সবচেয়ে বেশি কার্বন শুষে নিতে সক্ষম বনাঞ্চলও এটি৷ ব্যাপকভাবে বন উজাড় করা হচ্ছে সেখানে৷ গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ ধ্বংস হয়েছে চলতি ২০২০ সালে৷ প্রাণী হত্যার হারও বাড়ছে৷ কোনো কোনো জায়গায় বৃষ্টিপাত এক চতুর্থাংশ কমেছে৷

দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ : আর মাত্র ৮০ বছর

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে রয়েছে ৪০০ রকমের প্রবাল, ৫০০ প্রজাতির মাছ এবং সামুদ্রিক কচ্ছপসহ ৪০০০ ধরনের মলাস্ক৷ কিন্তু পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রবালদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য শেওলা অনেক বেশি হারে ছড়িয়ে পড়ছে৷ অর্ধেক রিফ ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে৷ বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বাড়তে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচয়ে বড় এই প্রবালের মৃত্যু হতে পারে৷

ডারউইনের বিপন্ন স্বর্গ

দক্ষিণ অ্যামেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে ইকুয়েডরের গালপাগোস দ্বীপ৷ বহু বৈচিত্রপূর্ণ প্রাণী, গাছপালা ও ভলকানিক আর্কিপেলাগোর কারণে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে এটি৷ এখানকার কিছু বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের বিবর্তনই ডারউইনকে প্রেরণা জুগিয়েছিল৷ পর্যটকদের আনাগোনা, দূষণ এবং মাত্রাতিরিক্ত মাছ শিকারের কারণে এই প্রাকৃতিক ভূস্বর্গের ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে৷

হিমালয় : হিমবাহ গলছে, গড়ে উঠছে আবর্জনার পাহাড়

উষ্ণায়নের কারণে আশঙ্কাজনক হারে হিমবাহ গলছে৷ আরেকদিকে হিমালয় ধীরে ধীরে ঢাকা পড়ছে আবর্জনার স্তূপে৷ গত চার দশকে দশ হাজারেরও বেশি বার হিমালয়ের চূড়ায় উঠেছে মানুষ৷ কতজন পর্বতারোহী সফল হয়েছেন, কতজন ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন বা কতজনের জীবনাবসান হয়েছে বন্ধুর পথে, তার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি৷ তবে সবাই মিলে হিমালয়ে যে পরিমাণ আবর্জনা ফেলেছেন এবং আবর্জনা যে হারে বাড়ছে, তাতে হিমালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও জাগছে শঙ্কা৷

জোসুয়া ট্রি ন্যাশনাল পার্ক : জোসুয়া গাছই শেষ হওয়ার পথে

ক্যালিফোর্নিয়ার জোসুয়া ট্রি ন্যাশনাল পার্কে জোসুয়া গাছ কতদিন থাকবে কে জানে! উষ্ণায়ন রোধ করা যাচ্ছে না, খরার কারণে জোসুয়ার চারা মরে যাচ্ছে বড় হওয়ার আগেই, পরাগায়নও পড়ছে প্রতিকুলতার মুখে৷ জোসুয়া ট্রি ন্যাশনাল পার্কে জোসুয়া গাছ বেশিদিন থাকবে কী করে?

কিলিমানজারো : বরফ না থাকলে কী হবে!

আফ্রিকার উচ্চতম পর্বত কিলিমানজারোর ভবিষ্যৎকেও শঙ্কায় ঘিরে ফেলছে উষ্ণায়ন৷ কিলিমানজারোর তিন আগ্নেয় শঙ্কুর সবচেয়ে বড়টি, অর্থাৎ কিবো নামের শঙ্কুটি সমুদ্রপৃষ্ণ থেকে ৫৮৯৫ মিটার উঁচুতে গিয়ে ঠেকেছে৷ সেই শিখর থেকে বরফ গলে পড়ছে দ্রুত৷ গবেষকরা বলছেন, ১৯১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৮৫ ভাগ বরফই হারিয়েছে কিবোর শুভ্র শিখর৷

মাচু পিচু : পদদলিত সভ্যতা

প্রতি বছর অন্তত ১৫ লাখ পর্যটকের পা পড়ে পেরুর এই বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া ইনকা নিদর্শনে৷ এত মানুষের হাঁটাচলায় যে কম্পন তৈরি হয় তাতে প্রাচীন এই কাঠামো ক্রমশ নড়বড়ে হচ্ছে৷

মাচু পিচু : পদদলিত সভ্যতা

প্রতি বছর অন্তত ১৫ লাখ পর্যটকের পা পড়ে পেরুর এই বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া ইনকা নিদর্শনে৷ এত মানুষের হাঁটাচলায় যে কম্পন তৈরি হয় তাতে প্রাচীন এই কাঠামো ক্রমশ নড়বড়ে হচ্ছে৷

লেক নিকারাগুয়া : খালে আসছে ‘কুমির’

প্রস্তাবিত নিকারাগুয়া খাল হয়ে গেলে ক্যারিবীয় সাগরের সঙ্গে যুক্ত হবে প্রশান্ত মহাসাগর৷ মধ্য অ্যামেরিকার সবচেয়ে বড় হ্রদটিতে তখন ডিঙি নৌকা উধাও হয়ে যেতে পারে, শুরু হতে পারে বড় বড় অনেক কন্টেইনার জাহাজের আনাগোনা৷ পরিবেশবাদীরা শঙ্কিত৷ অনেক হাঙর আর করাতি মাছের আবাস, স্থানীয়দের পানীয় জলের আধার এই হ্রদের ইকোসিস্টেমই তো তাহলে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাবে!

‘মৃত সাগর’-এর মৃত্যু আসন্ন?

বিশ্বের সবচেয়ে নীচু জলাধার ডেড সি ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে৷ জর্ডান নদী থেকে পানীয় জল আহরণ করছে ইসরায়েল ও জর্ডান৷ তার প্রভাব পড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪২০ মিটার নীচের ডেড সি-তে৷ প্রতি বছর গড়ে এক মিটারে র মতো নেমে যাচ্ছে ডেড সি৷


Smiley face