‘ধর্মীয় নয়-জীবনের অধিকার আগে’, কোর্টের পর্যবেক্ষণে প্রবল অনিশ্চিত গঙ্গাসাগর মেলা!

10
Smiley face

নাগা সাধুদের ছাড় দিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে এ বারের গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। মামলাকারীর আবেদন ছিল, সাগরদ্বীপে গোটা মেলার মাঠকেই কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হোক। পাশাপাশি, আবেদনে বলা হয়েছিল, কলকাতার বাবুঘাটকেও একই তকমা দিয়ে সেই জায়গা ফাঁকা করার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিক আদালত। গঙ্গাসাগর যাওয়ার পথে বহু মানুষ বাবুঘাটের শিবিরে থাকেন। এদিন সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘ধর্মীয় অধিকারের থেকে জীবনের অধিকার আগে। কোনভাবেই জীবন নিয়ে এই করোনা আবহে হেলাফেলা করতে দেওয়া যাবে না।’

শুধু তাই নয়, প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এদিন জানায়, রাজ্য সরকারকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুখ্য সচিবের মতো অফিসারদের সঙ্গে শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে হলফনামা দিক। তারা জানাক, গঙ্গাসাগর মেলা করোনা-বিধি মেনে কীভাবে করতে চায়? যদি আদালত ওই পরিকল্পনা দেখে সন্তুষ্ট না হয়, সেক্ষেত্রে এবার মেলার অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য রাজ্য সরকার সাগরের জল শিশি, বোতলে এনে যোগান দিক পূণার্থীদের, এমনই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই জল মাথায় ছিটিয়ে এবার গঙ্গাসাগরের সকলে পূণ্য সারুক। আগামীকাল, শুক্রবার বেলা দুটোয় রাজ্যের হলফনামা দেখে এই মামলার ফের শুনানি হবে।

তবে এই বছরের মেলা বন্ধ করার আবেদন জানালেও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিতে চান না মামলাকারী। তাই, হাইকোর্টের কাছে আবেদনে তাঁর বক্তব্য, যে নাগা সাধুদের জন্য এই সাগরমেলার মূল আয়োজন, তাঁদের সাগরদ্বীপের কপিলমুনির আশ্রমে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক করোনার যাবতীয় সতর্কতা বিধি মেনে। যদিও নাগা সাধুদের নিয়ে এখনও তেমন নির্দেশ কিছু আসেনি।

করোনা কালে সংক্রমণ এড়াতে ২০২০ সালে রাজ্যের সব বারোয়ারি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ওই ‘নো এন্ট্রি’ রায় দেওয়া হয়েছিল যাঁর মামলার ভিত্তিতে, সেই অজয় কুমার দে-ই এই বছর সাগরমেলার ভিড় ঠেকাতে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন। হাইকোর্টে অজয়ের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ব্রিটেনে করোনার নতুন স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে। বিদেশ থেকে এই রাজ্যে আসা কয়েক জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ এবং ওই নয়া স্ট্রেনের সন্ধানও মিলেছে। এই অবস্থায় সাগরমেলা করতে দিলে তা বিপজ্জনক হতে পারে বলে মামলাকারীর আশঙ্কা।

রাজ্যে দুর্গাপুজো, দেওয়ালি, ছট হয়েছে নিয়ন্ত্রিত ভাবে। সংক্রমণ বাড়েনি। এ বার গঙ্গাসাগর মেলা। অর্থাৎ আসমুদ্রহিমাচল থেকে বিপুল পুণ্যার্থীর আগমন, যা রাজ্য সরকারের কাছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ ছাড়াও রাজ্যের মানুষের কাছে তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ, ‘চেষ্টা করুন এবার অন্তত গঙ্গাসাগর মেলায় না যাওয়ার। ই-স্নান ও ই-দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাইলে ১৫০ টাকা দিয়ে সাগরের পূণ্য জল ও প্রসাদ পেতে পারেন ঘরে বসে। আমি নিজেও এবার যাচ্ছি না মেলাতে। মেলা শেষ হলে পরে যাওয়ার কথা ভাবব।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘বাইরে থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু করার নেই। তাঁরা আমাদের অতিথি।’ যদিও এদিন হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পর গঙ্গাসাগর মেলা হওয়া নিয়েই গভীর সংশয় তৈরি হল।


Smiley face