বাংলার নাট্যমঞ্চেও উঠে আসছে বিজেপি

7
Smiley face

পশ্চিমবঙ্গে এক সময় প্রগতিশীল আন্দোলনের সমার্থক হয়ে উঠেছিল গ্রুপ থিয়েটার৷ বামফ্রন্টের আমলেও এই পরম্পরা অটুট ছিল৷ কিন্তু বাম শাসনের শেষ দিক থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তনের ডাকে রং বদলাতে থাকে৷ নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু, বিভাস চক্রবর্তী, অর্পিতা ঘোষ প্রমূখ সরাসরি বিরোধীদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন৷

ব্রাত্য বসু এখন তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী আর অর্পিতা ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য৷ চন্দন সেন, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, মেঘনাদ ভট্টাচার্য প্রমুখ নাট্যকাররা বাম ধারাকে এখনো বজায় রেখেছেন৷

শহরে নয়া নজির

বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগেই নানা ইস্যুতে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ৷ সংস্কৃতি জগতেও তার ছোঁয়া লেগেছে৷ এর আগে টালিগঞ্জ চলচ্চিত্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে সংগঠন তৈরি হয়েছিল বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায়৷ এবার নাট্যকর্মীদের বড় আকারের একটি সংগঠনে অংশীদার হতে চলেছে গেরুয়া শিবির৷

আগামী ১৭ জানুয়ারি কলকাতার যোগেশ মাইম হলে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজনে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রের শাসকশিবিরের নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বিজেপির রাজ্য সম্পাদক ও থিয়েটারকর্মী শর্বরী মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী ও প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা৷ ‘দ্য লিবারাল থিয়েটারস্ কনফেডারেশন’ সংগঠনের আহ্বানেই এই জমায়েত৷

২০১৮ সালে তৈরি এই সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকর্মীদের সমস্যা, নিরাপত্তা, উন্নতিসহ সার্বিক দিক নিয়ে কাজ করতে চায়৷ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জেলার ৬৮৬ টি দল ইতিমধ্যে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে৷ সংগঠনের অন্যতম সদস্য ‘বোড়াই ইতি থিয়েটার’-এর সৃজিত ঘোষের ব্যাখা, ‘‘বাংলায় এই সংগঠন আরও আগে তৈরি হওয়া উচিত ছিল৷ বাংলা থিয়েটারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমস্যা৷ অতীতে আমরা নাট্যকর্মীদের অর্থনৈতিক ও শারীরিক সমস্যায় সহযোগিতা করেছি৷ লকডাউনেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি৷ এবার নিরাপত্তার জন্য নাট্যকর্মীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, আবাসনের ব্যবস্থা করতে চাই৷’’

তৃতীয় বিশ্বে নাট্যকর্মীদের অবস্থা নিয়ে কজন ভাবেন? লকডাউনে সব বন্ধ ছিল বলে মানুষের অনুদান এসেছে৷ এখন হল খুলে যাচ্ছে৷ মানুষ কি তেমন অনুদান দেবেন? নাট্যকর্মীদের সংসার চলবে কী করে? সমাধানই-বা কোথায়? এসব প্রশ্নই সৃজিৎ-এর মতো ‘সরস্বতী কলামন্দির’–এর প্রবীর মণ্ডল, ‘কালিন্দী নাট্যসৃজন’-এর বিল্বদল চট্টোপাধ্যায়, নাট্যকার মৃণালজিৎ গোস্বামীদের ভাবিয়েছে৷ তাহলে ১৭ জানুয়ারি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর লক্ষ্য কী? তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাডেমি কার্যত কোনো কাজই করে না৷ তাই নাট্য আকাডেমির দায়িত্বই পালন করবে ‘দ্য লিবারাল থিয়েটারস্ কনফেডারেশন’৷ পাশাপাশি ভাল হল তৈরি, ভাল অভিনেতা তৈরির মতো সামগ্রিক দিকেও নজর থাকবে৷

দলের অনুপ্রেরণা

নাট্যকর্মীরা জানান, দিল্লি থেকে বছরে ১২ কোটি, রাজ্য থেকে চার কোটি টাকা অনুদান আসে৷ সৃজিত বলেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছে বাংলা থিয়েটার দিল্লি নির্ভর৷ দিল্লি ছাড়া কাজ করার উপায় নেই, বাঁচার উপায় নেই৷ রাজ্যের সামর্থ্যও নেই, সাধও নেই!’’ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক নাট্যকর্মী বলেন, ‘‘থিয়েটার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ৩০ মিনিটের একটি ভিডিও অনুপ্রাণিত করেছে আমাদের৷ দেরিতে হলেও অনান্য দলের তুলনায় বিজেপি নাট্যদলের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করেছে৷’’

প্রবাদপ্রতিম নাট্যব্যক্তিত্ব মেঘনাদ ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘লকডাউনে আমরা নিজেরা নাট্যোৎসব করে টাকা তুলেছি৷ কিন্তু থিয়েটারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল মানুষদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো আলাদা করে গ্রান্ট দেননি৷ তাই জাতীয় পুরস্কারজয়ী নাট্যব্যক্তিত্বদের সই নিয়ে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলাম, তাতে দিল্লি কর্ণপাত করেনি৷ আজ হঠাৎ করে প্রায় একবছর পরে দিল্লি আমাদের সুবিধা করে দিচ্ছে, এটা অবান্তর৷’’

মেঘনাদ বলেন, ‘‘আসলে বিজেপি চাইছে নাট্যকর্মীদের মধ্যে ভাঙন তৈরি করে তাদের নিজস্ব ইউনিট তৈরি করতে, যেটা ভোটে কাজে লাগবে৷ সত্যি কাজ করার থাকলে অনেক আগেই করত৷’’


Smiley face