ফ্যাশন কোম্পানির দফতরেরও জাঁকজমক কম নয়

16
Smiley face

প্যারিসের বিখ্যাত ফ্যাশন কোম্পানি শানেলের নতুন সদর দফতর সত্যি নজর কাড়ার মতো৷ ‘দিসন্যোফ-এম’ বা ‘উনিশ-এম’ নামের ত্রিকোণ ভবনে ২৫,০০০ বর্গ মিটারেরও বেশি জায়গা রয়েছে৷ ২৪ মিটার উঁচু সিমেন্টের জাল গোটা ভবন ঘিরে রেখেছে৷ দেখলে দামি কাপড় মনে হবে৷ ফ্রান্সের স্থপতি রুডি রিচোটির মাথায় এই আইডিয়া এসেছিল৷ তিনি বলেন, ‘‘শানেল ও কার্ল লাগারফেল্ডের সঙ্গে তুলনা চলেই আসে৷ এই দুই ব্র্যান্ডই টেক্সটাইল বা কাপড়ের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছে এবং অত্যন্ত অভিনব ও সূক্ষ্ম উপাদান কাজে লাগিয়েছে৷ নিজের কাজের মাধ্যমে তাদের সেই সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার জন্য জরুরি ছিল৷ আমার তৈরি অনেক ভবনের নারীসুলভ চরিত্র রয়েছে৷ এই সিমেন্ট আমার কাছে অত্যন্ত সেনশুয়াল বা সংবেদনশীল ও নারীসুলভ৷ সিমেন্টের গঠন অনেকটা আমাদের ত্বকের মতো৷’’

সূক্ষ্ম জালের মতো সিমেন্টের প্রয়োগ এই তারকা স্থপতির বৈশিষ্ট্য৷ মার্সেই শহরের ‘ম্যুসেম’ নামের মিউজিয়াম, প্যারিসে জঁ-বুয়্যাঁ স্টেডিয়াম বা লুভ্র মিউজিয়ামের নতুন ইসলামি শিল্পকলা বিভাগে সেই শৈলি ফুটে উঠেছে৷ শানেল কোম্পানির নতুন ভবনের কংক্রিটের তৈরি সরু স্তম্ভগুলি আদর্শ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে দাবি করা হচ্ছে৷ কারণ ‘উনিশ-এম’ ভবনে ভবিষ্যতে শিল্পকলার কারিগররা তাঁদের অভিনব ক্ষমতা প্রয়োগ করে ‘ওৎ কুতুয়র’ বা উচ্চ মানের ফ্যাশন সৃষ্টি করবেন৷ রুডি রিচোটি বলেন, ‘‘কার্ল লাগারফেল্ড স্বয়ং বলেছিলেন, আমি শুধু বাইরের অংশ নিয়ে ব্যস্ত – এ ক্ষেত্রে যা হলো পোশাক৷ বাকি সব কিছুর দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর, যে সেই পোশাক পরছে৷ আমিও সেভাবে এই ভবনের বাইরের অংশ তৈরি করে বড় বড় স্টুডিওর ব্যবস্থা করেছি৷ আমি চাই, মানুষ খুশিমনে সেখানে কাজ করুক৷ সিমেন্টের এই কাঠামো সূর্যের আলো এমনভাবে ফিল্টার করবে, যাতে অতিরিক্ত আলো না প্রবেশ করলেও ঘর যথেষ্ট উজ্জ্বল থাকে৷”

মরোক্কোর মারাক্কেশ শহরে ইভ স্যাঁ লোরঁ-কে উৎসর্গ করে তৈরি মিউজিয়াম স্থাপত্য ও ফ্যাশনের মেলবন্ধনের আরেকটি দৃষ্টান্ত৷ অলিভিয়ে মার্টি ও কার্ল ফুর্নিয়ে সেই ভবনের ডিজাইন করেছেন৷ সেখানে আন্দোলিত ও সরল রেখার সমাহার দেখা যায়৷ ভবনের বাইরের অংশ কাপড়ের রুক্ষ কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দেয়৷ ভেতরের অংশ অনেকটা খানদানি পোশাকের মতো নরম ও মনোরম রংয়ের ঐকতান সৃষ্টি করে৷

প্যারিসে লুই ভুইতোঁ ফাউন্ডেশন ভবনে ফ্যাশনের বদলে শিল্পকলার প্রদর্শনী থাকলেও চোখ ধাঁধানো এই অট্টালিকা কোম্পানির প্রতীক হয়ে উঠেছে৷ ভবনটি নিজস্ব গুণেই এক শিল্পসৃষ্টি হয়ে উঠেছে৷ বাইরের অংশ অনেকটা জাহাজের মতো দেখতে৷ কোম্পানির প্রধান ব্যার্না আর্নো মার্কিন তারকা স্থপতি ফ্র্যাংক গেরি-কে এই ভবন ডিজাইনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন৷

এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরা হয়েছিল – ‘সবই আসলে সম্ভব’৷ ব্যার্না আর্নোর উপদেষ্টা জঁ-পোল ক্লাভেরি বলেন, ‘‘এমন অনবদ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান আমাদের ছিল না৷ স্থপতির সৃজনশীলতার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সৃষ্টি করতে একশোরও বেশি ইঞ্জিনিয়ার মিলে দুই বছর কাজ করেছেন৷”

আগামী মার্চ মাসে শানেল ব্র্যান্ডের নতুন সদর দফতর উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে৷ স্থাপত্যের আরও একটি উজ্জ্বল নিদর্শন পেয়ে প্যারিসের মানুষ নিশ্চয় খুশি হবেন৷

কাটিয়া লিয়ার্শ/এসবি


Smiley face