হিটলারের আরেক কলঙ্কিত উদ্য়োগ

22
Smiley face

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে ফ্রান্সের মোতায়েন করা কৃষ্ণাঙ্গ সৈন্য়দের বিয়ে করার কারণে জার্মান নারীদের ঘরে যে সন্তানেরা জন্ম নিয়েছিল, হিটলার সেই সন্তানদের নির্বীজ করার উদ্য়োগ নিয়েছিলেন৷

ভার্সেই চুক্তির কারণে

এই চুক্তির আওতায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে প্রায় এক লাখ সেনা পাঠিয়েছিল ফ্রান্স৷ এদের মধ্য়ে প্রায় ২০ হাজার জন এসেছিলেন ফ্রান্সের সেই সময়কার উপনিবেশ সেনেগাল, মরক্কো, ফ্রেঞ্চ ইন্দোচীন ও টিউনিশিয়া থেকে৷ এই কৃষ্ণাঙ্গ সৈন্য়দের মেনে নিতে পারেনি জার্মানির সেই সময়কার সরকার ও সুশীল সমাজ৷

‘অসভ্য় জানোয়ার’

ফ্রান্সের উপনিবেশ থেকে আসা সৈন্য়দের ‘অসভ্য় জানোয়ার’ হিসেবে তুলে ধরতে জার্মানির সেই সময়কার সরকার ও সুশীল সমাজের উদ্য়োগে একটি বর্ণবাদী প্রোপাগাণ্ডা কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যার নাম দেয়া হয়েছিল ‘দ্য় ব্ল্য়াক শেম’৷

‘আধ্য়াত্মিক অপরাধ’

জার্মান রাইশের প্রথম প্রেসিডেন্ট (১৯১৯-১৯২৫)’ ছিলেন এসপিডি দলের নেতা ফ্রিডরিশ এবার্ট৷ তিনি কিংবা তার দলের আরেক নেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আডল্ফ ক্য়োস্টার উপনিবেশ থেকে সেনা মোতায়েনকে জার্মান নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা ‘আধ্য়াত্মিক অপরাধ’ বলে আখ্য়ায়িত করেছিলেন৷ কৃষ্ণাঙ্গ সৈন্য়দের তারা ‘সবচেয়ে নীচু সাংস্কৃতিক স্তরের’ বলেও আখ্য়ায়িত করেছিলেন৷

‘সাদা কলংক’

প্রোপাগাণ্ডা চালানোর পরও ফ্রান্সের মোতায়েন করা অনেক কৃষ্ণাঙ্গ সৈন্য়ের সঙ্গে জার্মান শ্বেতাঙ্গ নারীদের বিয়ে হয়েছিল৷ এই নারীদের ‘হোয়াইট ডিসগ্রেস’ নাম দিয়েছিল সেই সময়কার জার্মান প্রোপাগাণ্ডা মেশিন৷ আর তাদের কোলজুড়ে যে সন্তানেরা জন্ম নিয়েছিল তাদের ডাকা হতো ‘রাইনলান্ড বাস্টার্ড’ হিসেবে৷ উল্লেখ্য়, ঐ সৈন্য়রা জার্মানির রাইনলান্ড এলাকায় মোতায়েন ছিল৷

ম্য়াগাজিনে প্রোপাগাণ্ডা

ছবিতে এক জার্মান ম্য়াগাজিনের প্রচ্ছদ দেখা যাচ্ছে৷ এতে বলা হয় ‘অসভ্য় কৃষ্ণাঙ্গ’ ফরাসি সৈন্য়ের সঙ্গে স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ নারী৷

হিটলারের নির্দেশে বীজাণুমুক্তকরণ

১৯৩৩ সালে হিটলার ক্ষমতায় আসার আগে সরকারিভাবে ঐ সন্তানদের ঘরে যেন আর কোনো সন্তান জন্ম নিতে না পারে সেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷ কিন্তু বিষয়টি অবৈধ মনে করে তাতে সায় দেননি ঐ সময়কার সরকারপ্রধানরা৷ তবে হিটলার এসে সেই কাজ শুরু করেছিলেন৷

হিটলারের নির্দেশে বীজাণুমুক্তকরণ

১৯৩৩ সালে হিটলার ক্ষমতায় আসার আগে সরকারিভাবে ঐ সন্তানদের ঘরে যেন আর কোনো সন্তান জন্ম নিতে না পারে সেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷ কিন্তু বিষয়টি অবৈধ মনে করে তাতে সায় দেননি ঐ সময়কার সরকারপ্রধানরা৷ তবে হিটলার এসে সেই কাজ শুরু করেছিলেন৷


Smiley face