রাঙ্গামাটির ঘাগড়া ঝরনার নান্দনিক পরিবেশ

56
Smiley face

রাঙ্গামাটির চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে ঝরনাটি অবস্থিত।এলাকাটি কলাবাগান নামেও পরিচিত।স্থানীয়ভাবে এটি ‘কলাবাগান ঝরনা বা ঘাগড়া ঝরনা’ হিসেবে পরিচিত। এখানে পাহাড়ি ছড়ার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয় মূল ঝরনায়। তবে যাওয়ার পথে দেখা মেলে আরও ৫-৬টি ছোট-বড় ঝরনার।

রাঙ্গামাটি শহর থেকে সিএনজি ভাড়া করে যেতে হয় ঝরনাটিতে। ভাড়া নিতে পারে ২০০-২৫০ টাকা। মূল সড়কের হাতের বামে প্রবাহমান একটি ছোট্ট পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। ছড়াটির উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নুড়ি পাথরের উপর দিয়ে হেঁটে দুই পাশের অসংখ্য পাহাড় আর সবুজে ঢাকা গাছ-পালার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যেতে হয় মূল ঝরনার দিকে।

চলার পথে অসংখ্য ছোট ছোট ঝরনা পর্যটকদের নজর কাড়তে শুরু করবে। মাত্র পনেরো থেকে বিশ মিনিট হেঁটে গেলেই দৃষ্টিনন্দন বড় ঝরনাটি স্বাগত জানাবে। এরপর হালকা পিচ্ছিল অথচ মসৃণ পথ বেয়ে উপরের দিকে উঠতে হয়। এ পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে স্বচ্ছ পানি দেখে জলরঙ্গ খেলার লোভও জাগতে পারে।

প্রথম ঝরনা থেকে কিছুটা উঁচুতে উঠলে অপর ঝরনাটি পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে বিমোহিত করবে। এভাবে একেকটা ঝরনাধারা পেরিয়ে একের পর এক যত উঁচুতে উঠবেন; ততই মুগ্ধ হবেন। মূল ঝরনায় যাওয়ার পথ ও পথের ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নুড়ি পাথার ও সবুজে ঢাকা অরণ্য মুগ্ধ করবে। আপনাকে আনন্দের অন্য এক রাজ্যে নিয়ে যাবে মুহূর্তেই।

এ পথের সর্বশেষ অংশে দেখা মিলবে আকাশচুম্বী সবচেয়ে বড় ঝরনাটির। ঝরনাটি এতই উঁচু যে, তার কাছে ঘেঁষতে ভয় পেয়ে যাবে যে কেউ।মনোরম এ প্রাকৃতিক ঝরনাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- সমতল থেকে স্তরে স্তরে অন্তত দেড় থেকে দু’শ ফুট উঁচু থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ঝরনারই রয়েছে স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্য, যা না দেখলে কারো বিশ্বাস হবে না।প্রকৃতির এ অপরূপ সাজ যে কোন ভ্রমণপিপাসুকে মুগ্ধ করবে।’

তবে ঝরনায় আসার পথ অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে নিরাপত্তারও ঝুঁকি রয়েছে। তাই পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


Smiley face