সুনামগঞ্জের হিন্দু গ্রামে হামলা: হয়নি মামলা, নেই গ্রেপ্তার, পরিস্থিতি থমথমে

36
Smiley face

 সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকদের হামলার ঘটনার একদিন পরেও কোন মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এবং র‍্যাবের দু’টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে।

তবে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, গ্রামের বাসিন্দাদের আতংক এখনও কাটেনি। সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা মামুনুল হককে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একজন হিন্দু ব্যক্তির স্ট্যাটাস দেয়ার জের ধরে শত শত হেফাজত সমর্থক গতকাল বুধবার নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়।

ঘটনার পরদিন আজ র‍্যাবের মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং গ্রামটির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন।

পরে মি: মামুন সাংবাদিকদের বলেছেন, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান  বলেছেন, হামলায় জড়িতদের অনেকের নাম পাওয়া গেছে। আজ মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

কিন্তু লাঠিসোটা, দা-ছুরিসহ নানা রকম দেশী অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল। এর দীর্ঘ সময় পরও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি কেন?

এই প্রশ্নে পুলিশ সুপার মি: রহমান বলেছেন, “যখন শত শত মানুষ একটা ঘটনার সাথে যুক্ত থাকে, তখন পরিস্থিতি ট্যাকেল (সামাল) দেয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতি যাতে কম হয়, সেটাই মুল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সেই পরিস্থিতি গেছে এবং আজ স্বাভাবিক অবস্থা এসেছে। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”

তিনি উল্লেখ করেছেন, “হেফাজতে ইসলামের মামুনুল হককে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। ফলে হামলাকারীরা তার অনুসারী বা তার আদর্শে বিশ্বাসীরা হতে পারে। আমরা কিছু নাম পেয়েছি, তা এখন প্রকাশ করবো না।”

স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ীই বুধবারের এই হামলায় গ্রামটিতে হিন্দুদের ৮৮টি বাড়ি-ঘর এবং সাত আটটি পারিবারিক মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, তাদের বিভিন্ন বাড়ি থেকে গচ্ছিত থাকা টাকা এবং স্বর্ণ লুট করেছে হামলাকারীরা।

ওদিকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুনামগঞ্জের হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলাকারীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।

গত ১৫ই মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এক ধর্মীয় সমাবেশে হেফাজতের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এর পরদিন মামুনুল হককে নিয়ে গ্রামটির একজন হিন্দু যুবক স্ট্যাটাস দেয়-এই অভিযোগ তুলে হেফাজতে সেখানে বিক্ষোভ করেছিল।

সেই যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


Smiley face