উদ্যোক্তা হতে ইসলামের উৎসাহ

93
Smiley face

করোনা মহামারিতে অনেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য খুব সহজেই করতে পারছেন। লকডাউনে বেকার বসে না থেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন অনেক আলেম ও ছাত্রও। পিছিয়ে নেই নারীরাও, পর্দার আড়ালে থেকেই অনেকে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন খুব সহজে। পছন্দমতো মানসম্মত জিনিস এখন ঘরে বসেই কেনা যায়, মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে পাওয়া যায় যেকোনো পছন্দের খাবার। এ কারণে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন অনলাইন কেনাকাটায়। প্রতিদিন আত্মপ্রকাশ করছেন নতুন নতুন উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তা এমন ব্যবসায়ী যিনি নতুন কোনো ব্যবসা নিয়ে চিন্তা করেন, যা আগে কেউ করেননি অথবা পুরনো কোনো ব্যবসাকে নতুনরূপে নিয়ে আসেন। তিনি নতুন ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন, চালাবেন এবং কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করবেন, সেখান থেকে কতটুকু লাভ করবেন তার পরিকল্পনা করেন। একজন সফল উদ্যোক্তার প্রধান গুণাবলি হলো, তিনি অত্যন্ত সৎ ও সত্যবাদী হবেন। তিনি দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে পারেন।

ব্যবসার মধ্যে মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের একটি শিক্ষা খুঁজে পাওয়া যায়। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা ব্যবসা পেশাকে অন্য পেশার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তবে শর্ত হলো, সেটা শরিয়ত ও সুন্নত মোতাবেক হতে হবে। ব্যবসায় মগ্ন হয়ে কিছুতেই আল্লাহ থেকে গাফিল হওয়া যাবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল করে না দেয়।’

(সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ৯)

উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। পবিত্র হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, তোমরা ব্যবসার প্রতি মনোযোগী হও, কেননা ৯০ শতাংশ রিজিক এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে। এ ছাড়া আরো অনেক হাদিস থেকেই ব্যবসার মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রতিভাত হয়। বেশির ভাগ সাহাবি, তাবেয়ি, আলেম ও ফকিহ এ পেশাই অবলম্বন করছেন। মুসলমানরাও এ অঙ্গনে বিশেষ উন্নতির মাধ্যমে সুখ্যাতি অর্জন করেছে।

হালাল পথে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের কিয়ামতের দিন সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বিশ্বস্ত ও আমানতদার ব্যবসায়ীদের হাশর কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১০২৯)

মহানবী (সা.) নিজেও একজন উদ্যোক্তা ছিলেন। যৌবনে পদার্পণ করে কোরাইশের অন্য যুবকদের মতো ব্যবসা-বাণিজ্যকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। চাচা আবু তালেবের তত্ত্বাবধানে ব্যবসা-বাণিজ্যে তাঁর হাতেখড়ি। চাচার সঙ্গীরূপে ইয়েমেন ও শামে বাণিজ্য সফরেও আসা-যাওয়া হতে লাগল। ইবনে সাদ (রহ.)-এর বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, রাসুল (সা.) চাচা আবু তালেব কিংবা অন্য ব্যবসায়ী সঙ্গীদের সঙ্গে বাজারে কর্মতৎপর ছিলেন। তাঁদের মাধ্যমে রাসুল (সা.) ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাথমিক ধারণা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। খাদিজা (রা.)-এর বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে সিরিয়া সফরের আগে ২৫ বছর ধরে তিনি কমবেশি ব্যবসা করেছেন এবং সফলভাবেই করেছেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। এমনকি আরবের আনাচে-কানাচে তাঁর সততা ও সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও কর্মদক্ষতার সুখ্যাতির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতবর্ষে ইসলাম এসেছে উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে। এই ভূখণ্ডে সর্বপ্রথম যাঁরা ইসলাম প্রচার করেছেন, তাঁরা মুজাহিদ ছিলেন না। কোনো তাবলিগি জামাতও এখানে আসেনি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে। এ অঞ্চলে সর্বপ্রথম ইসলাম প্রচারকারী ছিলেন কিছুসংখ্যক সাহাবি ও তাবেয়ি উদ্যোক্তা, যাঁরা ব্যবসায়ীর বেশে এ অঞ্চলে এসেছিলেন। তাঁরা নিজেদের ব্যবসার মাধ্যমে এমন সুমহান আদর্শ স্থাপন করেছিলেন যে এ অঞ্চলের মানুষের অন্তরে তাঁদের প্রতি সীমাহীন অনুরাগ জন্ম নেয়। ফলে ইসলামের সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটে এবং ইসলামকে তারা একটি শ্রেষ্ঠ দ্বিনরূপে গ্রহণ করে নেয়। (সূত্র : খুতুবাতে দাওরায়ে হিন্দ, সংক্ষেপিত)

তাই আমাদের উচিত বেকারত্বের শিকল ছিঁড়ে ফেলে একজন সৎ উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার চেষ্টা করা। রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত মোতাবেক ব্যবসা করে পৃথিবীকে ইসলামের সৌন্দর্য জানান দেওয়া। মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ইনশাআল্লাহ, মহান আল্লাহ সবাইকে সফল করবেন।


Smiley face