কেন বলা যাবে না ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি’

30
Smiley face

‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন প্রেক্ষাপটে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা বাঙালি জাতির অবিসংবাদী নেতা বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা অনুমোদন করেছেন। ‘বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি’ এ কথা বলার অর্থ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অস্বীকার করা, আন্তর্জাতিক আইনে’ ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বৈধতা অস্বীকার করা এবং ইতিহাস অস্বীকার করা। যারা এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ করবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

আজ (১০ এপ্রিল) স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে একথা বলা হয়। ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অস্বীকার রাষ্ট্রদ্রোহিতাতুল্য অপরাধ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর মাননীয় মন্ত্রী এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম এমপি এবং প্রধান বক্তা ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ গবেষক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ হচ্ছে স্বাধীনতাকামী কোন দেশের স্বাধীনতার পক্ষে দাবি।

‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন স্বাধীনতাকামী জাতির অবিসংবাদী নেতা হিসেবে, নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি হিসেবে। আন্তর্জাতিক আইন অন্য কাউকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের অনুমোদন করে না। কোনও দেশে কেউ যদি তা করেও থাকেন তার কোন আন্তর্জাতিক বৈধতা নেই। দালাইলামা তিব্বতের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন ১৯৫৯ সালে। যেহেতু তিনি নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি ছিলেন না সেহেতু তাকে এবং স্বাধীনতাকামী তিব্বতীদের আশ্রয়দানকারী ভারতও দালাইলামার স্বাধীনতার ঘোষণাকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি।

ওয়েবিনারের প্রধান বক্তা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সৃষ্টি এক রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রেক্ষিতে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ তারিখ থেকে কার্যকর এবং এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উক্তরূপ স্বাধীনতার ঘোষণা দৃঢ়ভাবে অনুমোদন ও সমর্থন করা হয়েছে।

প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর মাননীয় মন্ত্রী এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম এমপি বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সূতিকাগার বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এ জায়গা বাংলাদেশের অস্তিত্বের শিকড়। সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরোধিতা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।

নির্মূল কমিটির আইন সহায়ক কমিটির সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের প্রথম সংবিধান। এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করেছে আমাদের ২৬৯ জন গণপ্রতিনিধি। সেজন্য তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ভারত, ভূটানসহ বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ নির্দেশনায় ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সংবিধান প্রণয়ন করেন, যার মূল ভিত্তি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং সংবিধান এর সহজপাঠ আমাদের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।


Smiley face