জলবায়ু সংকটে শেখ হাসিনা ও যুক্তরাষ্ট্র

30
Smiley face

বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি গত ৯ এপ্রিল ঢাকা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কেরি বলেছেন, বাইডেনের অনুরোধে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা নিয়ে এসেছেন। একই দিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল সংগ্রহের জন্য কেরির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। এছাড়া গ্লাসগোতে ২০২১-এর শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় কপ-২৬ সম্মেলনের ফাঁকে উচ্চ পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠান আয়োজনেও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জন কেরি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতি অসাধারণ সহযোগিতার যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন অনেক কৃতজ্ঞ। এটি অসাধারণ মানবতা। তবে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

এক্ষেত্রে বিশ্বসম্প্রদায়ের উদ্যোগ বাড়ানো উচিত। এটি কেবল বাংলাদেশের দায়িত্ব নয়, জাতিসংঘের ভূমিকাও দরকার। বাংলাদেশ সহযোগিতার হাত বাড়ানো অন্যতম মহান রাষ্ট্র, যে তাদের (রোহিঙ্গাদের) একটি দ্বীপ দিয়েছে। বাংলাদেশ তাদের সহযোগিতা করছে। কিন্তু এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নয়।

মূলত জন কেরির সফরে জলবায়ু নেতৃত্বে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অবশ্য এর আগে আমেরিকার বিভিন্ন কর্তাব্যক্তির সফরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আঞ্চলিক বিষয়াবলি, শান্তিরক্ষা মিশন এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদবিরোধী দক্ষতা বৃদ্ধিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ পুলিশের সহযোগিতায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আসছে।

দুই.
জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বিশ্ব ফোরামে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মুখপাত্র হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সংকট। এর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অবদান রাখার পাশাপাশি বিশ্বজনীন আলোচনায় স্বীয় স্বার্থ সংরক্ষণে সদা সচেষ্ট রয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূলতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনন্য দক্ষতা ও সাফল্য প্রদর্শনের সুবাদে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে আজ একটি রোলমডেল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অগ্রণী সৈনিক হিসেবে ২০০৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ক্লাইমেট ট্রাস্ট তহবিল গঠন করার মধ্য দিয়ে বিশ্বের নজর এবং প্রশংসা কেড়ে নেয় বাংলাদেশ। পাশাপাশি, জলবায়ুবিষয়ক সর্বোচ্চ বিশ্ব ফোরাম জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (ইউএনএফসিসিসি) কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (সিওপি)-এ ২০১৫-এ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। একই অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রধানমন্ত্রীকে ‘আইসিটিজ ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় সংকল্পের কথা উল্লেখ করে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার লক্ষ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সবসময় তিনি তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধ এবং অভিযোজন বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নানা পদক্ষেপ ও কর্মসূচি তুলে ধরেন।

এজন্য ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট জন এফ কেরির বাংলাদেশ সফরে এসে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বাংলাদেশের উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তার সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিষয় ছাড়াও জাতীয়, বহুপক্ষীয় এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র জোরদার হয়। সে সময় সেক্রেটারি কেরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মরক্কোর মারাকেশ শহরে ২০১৬ সালের ৭-১৮ নভেম্বর সিওপি-২২ সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা প্যারিস চুক্তির প্রায়োগিক বিষয়টি কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে গভীর আস্থা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবপ্রসূত ক্ষতির মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার ব্যাপারেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

তিন.
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২৬ মার্চ (২০২১) ভিডিও বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা মানবিকতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আপনারা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নির্দ্বিধায় আশ্রয় দিয়েছেন। এই সংকট উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের পার্টনার। জলবায়ু পরিবর্তনে একযোগে কাজ করবে দুই দেশ।’ তিনি আরো বলেছেন, ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি বলেছিলেন, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকবে। আপনারা কখনো মাথা নত করেননি। শেখ মুজিবুর রহমানকে স্যালুট। এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য অনেক ত্যাগ করেছে।’ এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি (২০২১) যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলামের পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণকালে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান শক্তিশালী ও স্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর করতে এবং দুদেশের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো আরো এগিয়ে নিতে তার সরকারের আগ্রহের কথা জানান।
২০২০ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করার পর ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত কমলা হ্যারিসকে অভিনন্দন জানান। জো বাইডেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে ৪৭তম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

বারাক ওবামা ২০০৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ২০১২ সালে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনা সরকার ও বারাক ওবামার প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ ঘটে। ফলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ওবামা প্রশাসনের ইতিবাচক ধারণা ছিল সবসময়। বারাক ওবামা এ দেশের মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে ২০১৫ সালে প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা সরকারের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হয়ে এ দেশকে তিনি এশিয়ার টাইগার আখ্যা দেন। ওবামা সরকারের সময় ২০১৪ সালে সপ্তাহব্যাপী সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহসভাপতিত্বে ২৬ সেপ্টেম্বর শান্তিরক্ষা সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগমে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরেছিলেন।

এদিক থেকে আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শেখ হাসিনাকে ভালো করেই চেনেন ও জানেন।
আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত যথাক্রমে নিরাপত্তা সংলাপ, অংশীদারত্ব সংলাপ, সামরিক সংলাপ, ব্যাংক সংলাপ এবং টিকফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ষষ্ঠ নিরাপত্তা সংলাপ ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়।

চার.
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সুসম্পর্কের বিষয়টি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কতটা তাৎপর্যবহ তা ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ৯ এপ্রিলের (২০২১) বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। তারা জানিয়েছে, এ মাসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বীকৃতি পাবেন। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ও ভালনারেবল টোয়েন্টি গ্রুপ অব ফিন্যান্স মিনিস্টার্সের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জলবায়ু ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও সহনশীলতা অর্জনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গীকার, তার গুরুত্বই তুলে ধরেছেন বাইডেনের বিশেষ দূত জন কেরি।

আবার তার আলোচনায় জলবায়ু নীতি, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং টেকসই অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে সমৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা গুরুত্ব পেয়েছে। জলবায়ু সংকট রোধে প্রশমন ও অভিযোজনকে সহায়তা দিতে এবং সমৃদ্ধিকে সমর্থন জোগাতে যে বিনিয়োগ দরকার, তা সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফলপ্রসূ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে সক্ষম হবে বলে আমরা মনে করি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক বৈশ্বিক আলোচনা ও উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সবসময়ই বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।

ড. মিল্টন বিশ্বাস : অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


Smiley face