জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসুন

24
Smiley face

কক্সবাজারের সৈকতে ভেসে আসা তিমি দুটির মৃত্যু বাংলাদেশের সমুদ্রের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের বাইরে চলাচলরত বড় জাহাজের আঘাতে হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিমি দুটির গায়ে বড় আকারে ক্ষত দেখে তারা এ ধারণা করছেন। তিমি দুটির পাকস্থলীতে কোনো ধরনের প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গত শুক্র ও শনিবার পরপর দুটি বৃহৎ আকারের ব্রিডস হোয়েল হিমছড়ির সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসে। এর আগে ১৯৯০ সালে একটি তিমি কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে ভেসে এসেছিল। তিমি নিধন এভাবে অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

এর আগে আমরা দেখেছি চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডলফিন হত্যার ঘটনা। দুর্ভাগ্যের বিষয়, চট্টগ্রামের হালদা নদীদূষণ, মাত্রাতিরিক্ত শিকার, আবাসস্থল বিনষ্ট, মাত্রাতিরিক্ত যান চলাচল ও বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার কারণে ডলফিন হুমকির মুখে পড়েছে।

২০১৮ সালে করা জরিপে হালদায় ডলফিনের সংখ্যা ছিল ২০০টির মতো। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত হালদায় ২৪টি ডলফিনের মৃত্যু রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি। কর্ণফুলী নদীর অন্যতম আকর্ষণ ‘গেঞ্জেস ডলফিন’ বা গাঙ্গেয় ডলফিন।

কর্ণফুলীতে মাত্রাতিরিক্ত দূষণের পরও এ প্রজাতির ডলফিনগুলো এখনো টিকে আছে। কর্ণফুলীতে প্রজনন শেষে এ ডলফিন বিচরণ করে শাখা নদী হালদা ও সাঙ্গুতে। দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা।

নদীতে মা মাছের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে চোরা শিকারিদের উৎপাত। জালে ডলফিন আটকালে আর মাছ ধরা পড়ে না বলে হালদা পাড়ে কুসংস্কার আছে। এভাবে ডলফিন হত্যার ধারণা যদি চোরা শিকারিদের মধ্যে ছড়ায় তাহলে হালদার ডলফিন রক্ষা কঠিন হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় ডলফিনকে বিপন্ন হিসেবে লাল তালিকায় রেখেছে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

আমরা চাই, কেবল ডলফিন নয়, সার্বিক অর্থে জলজ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় হতে হবে।

অন্যথায় জলজ প্রতিবেশের বিলোপ পরিস্থিতি স্থলেও সম্প্রসারিত হবে। পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী রক্ষা করতে হলে এর টিকে থাকার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। তাহলে আশা করা যায় দেশের নদীগুলো ডলফিনের বসবাস উপযোগী হবে।

এতে আমাদের জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে দুটি মৃত তিমি কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এসেছিল। কিন্তু কোনোটির তদন্ত হয়নি। এবার তিমির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এগুলোর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরের জলসীমানায়, নাকি অন্য কোনো জায়গায়; তা চিহ্নিত হওয়া দরকার।


Smiley face