চতুর্থ চিঠি

30
Smiley face

 সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

আজ আপনাকে কি লিখবো বুঝতে পারছি না।আজ কাল আপনার কথা ভাবতে ভাবতে নিজেকেই পাগল পাগল লাগে নিজের কাছে।আচ্ছা বাদ দেন কেমন আছেন আপনি?

দু দুটো চিঠি দিলাম আপনার ঠিকানায় আপনি কি একটাও পাননি নাকি পেয়েও কোনো উত্তর দেবার প্রয়োজন মনে করেননি।না আমি এক দম রাগ করিনি।এই আধুনিক যুগে এসে যে সবাই আমার মত চিঠি লিখতে পছন্দ করবে সেটা তো আর হয় না।তবে আমার আপনাকে চিঠি লিখতে ভীষণ ভালো লাগে। আপনাকে চিঠি লেখার সময় আমার অদ্ভুত একটা আনন্দ হয়।এই আনন্দ আমি অন্য কোনো কাজে পাই না।

এর জন্য কি আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত ?না না আমি এত আনুষ্ঠানিকতা পছন্দ করি না।যেখানে একদম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া চলে না সেখানে আলাদা ব্যাপার ।আপনার কাছে এত আনুষ্ঠানিকতার কি আছে।

জানেন আজ নামাজে বসে কেনো যেনো বার বার আপনার কথা মনে হচ্ছিলো।না না এটা ভাবার কিছু নেই যে আমি আল্লাহর কাছে আপনাকে চেয়েছি,এমন কিছু আমি চাইনি।আমি চেয়েছি এই অসুস্থ পৃথিবীতে থেকেও আপনি যেনো সুস্থ থাকেন,ভালো থাকেন।যেনো আমাদের আবার দেখা হয় একটা সুস্থ পৃথিবীতে।

আপনি কি জানেন আপনার বাড়ির পাশের মেয়েটাকে আমার খুব অসহ্য লাগে ,আবার হিংসেও হয়।এখন নিশ্চয় ভাবছেন আপনার বাড়ির পাশের মেয়েটাকে আমি চিনলাম কি করে!না আমি চিনি না আপনার পাশের বাড়ির মেয়েটাকে।তাহলে এত অসহ্য লাগার কারণ কী আর হিংসে হবারও বা কারণ কী তাই না?

অবশ্যই কারণ আছে। কারণ ছাড়া তো আর একটা মেয়েকে না দেখে বা না চিনে অসহ্য লাগার কোনো কারণ নাই।সত্যি বলতে আমার আপনাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছা করে।আপনি যখন বন্ধুদের ফোন পেয়ে কোনো কাজে খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে বেরিয়ে যান তখন আপনার সেই ক্লান্ত মুখটা আমার ভীষণ দেখতে ইচ্ছা করে।তবে আমি তো আর দেখিতে পারি না। মাঝে মধ্যে হলেও আপনার পাশের বাড়ির মেয়েটা ঠিক দেখতে পাই ।এখন বুঝছেন তো আপনার পাশের বাড়ির মেয়েটা আমার কেনো হিংসে হয়!

আজ কাল রাতে আমার ঘুম হয় না আপনার কথা ভেবে অথচ আমি কতই না  ঘুম পাগল মেয়ে ছিলাম।বর্তমানে আপনার কথা ভেবেই আমার দিন রাত কেটে যায়।মাঝে মাঝে ভাবি আমার যেমন দিন কেটে যায় আপনার কথা ভেবে আপনার কি আমার কথা ভাবার এতটুকুও সময় হয়?সময় না হলেও আমি মন খারাপ করবো না।এমন তো কথা ছিলো না যে আমি আপনার কথা ভাবলেই ,আপনাকে আমার কথা ভাবতে হবে।

তবে কি বলুনতো প্রতিটা মানুষ চাই যে অপর পাশের মানুষটার কথা ভেবে দিন রাত পার করে ফেলছে ,সে অপর পাশের মানুষটাও তাকে অন্তত্য একবার হলেও মনে করুক ,তাকে নিয়ে একটু ভাবুক।

অবশ্য আপনি  আমার কথা না ভাবলেও আপনার উপর আমার কোনো রাগ,আভিমান বা অভিযোগ নেই।

জানেন প্রতি রাতে ডাইরির ভিতর  লুকিয়ে রাখা আপনার ছবিটা আমি যখন দেখি তখন আমার রবী ঠাকুরের একটা গানের কথায় বারবার মনে পড়ে

                                                        “কইতে কী চাই ,কইতে কথা বাধে,

                                               হার মেনে যে পরান আমার কাঁদে,

                                                                আমায় তুমি ফেলেছ কোন ফাঁদে

                                                চৌদিকে মোর সুরের জাল বুনি।”

মাঝে মাঝে আমার মনে হয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে চিঠি না পাঠিয়ে আমি নিজ হাতে আপনার কাছে চিঠিগুলো পৌছে দিই তবে সেটা পেরে উঠি না।আর সেটা আদেও পারবো কিনা জানি না।আজ আর কিছু লিখছি না। অন্য দিনের জন্য বাকি কথাগুলো তোলা রইলো।

ইতি

আপনার হিমাদ্রী


Smiley face